প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এবার নজিরবিহীন তোলপাড়! ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আজ প্রথম ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডের হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে নাম না-করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে এক চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তিনি মুখ খুললে বিগত ১০ বছরের সমস্ত ইতিহাস জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে যাবে।তৃণমূল নেত্রীর এই প্রকাশ্য এবং নজিরবিহীন আক্রমণ ঘিরে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আজকের সমাবেশে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী অতীতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। তৃণমূল নেত্রী আজ সরাসরি তাঁর সেই পুরনো সময়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অতীতের সমস্ত অভ্যন্তরীণ খতিয়ান তাঁর নখদর্পণে রয়েছে।
বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে আসলে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে এবং “তৃণমূলের কোল খালি করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, আজকের এই তীব্র আক্রমণের নেপথ্যে রয়েছে গতকালের একটি বড় ঘটনা। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের পুলিশি গুলিবর্ষণের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। আজ ২১ জুলাইয়ের মূল মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে তার পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর আজকের এই ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির, কংগ্রেস এবং বিজেপি—সব পক্ষের আলাদা আলাদা কর্মসূচি ঘিরে আজ সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর বর্তমান শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
