Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আগেভাগে হারের চিত্রনাট্য তৈরি?” ফল প্রকাশের আগেই মমতার ‘ভোট লুট’ তত্ত্বে চরম হাসির খোরাক রাজনৈতিক মহলে!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন শেষ হতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। আগামীকাল, ৯ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ বা ভোট গণনা। কিন্তু তার ঠিক আগের মুহূর্তে, আজ (বৃহস্পতিবার) ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার পথে এক মারাত্মক বোম ফাটালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, “নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে অবাধে ভোট লুট করেছে বিজেপি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই “ভোট লুট”-এর দাবি সামনে আসতেই পাল্টা অল-আউট আক্রমণে নেমেছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের নেতারা তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি “ব্যালট বাক্সের কালো অতীত” মনে করিয়ে দিয়ে তীব্র কটাক্ষে ধুয়ে দিয়েছেন। তাঁদের সাফ কথা—গণনা শুরু হওয়ার আগেই নিজের দলের আসন্ন নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই আগেভাগে কান্নাকাটির চিত্রনাট্য সাজাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তৃণমূলকে তুলোধোনা করে তাদের শাসনকালের একাধিক নির্বাচনকে মনে করিয়ে দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব পাল্টা তোপ দেগে বলেছেন, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যখন তৃণমূলের বাহিনী বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেয়নি, ব্যালট বাক্স পুকুরে ফেলেছিল এবং বুথ দখল করে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে আজ “গণতন্ত্র বাঁচাও”-এর বুলি এক পরম কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়। চলতি বছরে রাজ্যে রাজনৈতিক রদবদল হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নির্বাচন কমিশন (EC) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর দায় চাপিয়ে চলেছেন, তাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা বলে দেগে দিয়েছে শাসকদল।

নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে গড়ে প্রায় ৭৯ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও কড়া নজরদারিতেই সম্পন্ন হয়েছে। বিজেপির দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ পরাজয়ের গ্লানি এড়াতে এবং দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এই মনগড়া তত্ত্ব তৈরি করছেন মমতা। শাসকদলের এক শীর্ষ মুখপাত্রের কথায়, “বিগত জমানায় যেভাবে ছাপ্পা ভোট এবং গুন্ডারাজ কায়েম করে ওনারা ভোট লুট করতেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় এখন আর সেই সুযোগ নেই। রিগিং করার কোনো পথ খোলা না পেয়েই এখন ছটফট করছেন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ খাতির পাওয়ার দিন চলে গিয়েছে, বাংলার মানুষ ব্যালটে জবাব দিয়ে দিয়েছে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গণনা কেন্দ্রের দরজা খোলার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ভোট লুট’ এবং ‘কারচুপি’-র আগাম অভিযোগ আসলে এক রাজনৈতিক ঢাল, যাতে ৯ তারিখ ফল প্রকাশের পর পরাজয়ের দায় নিজের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলা যায়।

Exit mobile version