প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনে নিজের খাসতালুক হাতছাড়া হওয়ার ধাক্কা কি এখনও সামলে উঠতে পারছেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর, আজ মঙ্গলবার সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটগণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপির দাবি তুলে তিনি একটি নির্বাচনী হলফনামা (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন। এদিন দুপুরে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিতে পৌঁছান তিনি। মূলত মামলার আইনি নথিপত্রে সই (অ্যাফার্ম) করার জন্যই তাঁর এই সশরীরে হাজিরা। পিটিশনে তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও রেকর্ড সংরক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০১১ সাল থেকে যে ভবানীপুরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সবচেয়ে নিরাপদ দুর্গ বলে মনে করতেন, সেখানে এই হার তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ধাক্কা। এর আগে ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পরাজয়কেও তিনি একইভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যা এখনও বিচারাধীন। পরপর দুটি সাধারণ নির্বাচনে একই প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত হয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়াকে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক জমি ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর এই আইনি পদক্ষেপকে ‘গণতান্ত্রিক রায়কে অস্বীকার করার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যের মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পেরে গণনাকেন্দ্রে কারচুপির মতো অজুহাত খাড়া করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
