প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় স্তরে নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে ফের একবার দিল্লির দরবারে সরব হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১ নভেম্বর দেশের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘INDI’ জোটের একটি হাইপ্রোফাইল কর্মসূচিতে তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন বলে আজ, মঙ্গলবার নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রীর এই ঘোষণার পরপরই জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের পর দিল্লির এই মঞ্চকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের হাতিয়ার করতে চাইলেও, তাঁর এই বয়ানকে ঘিরে পাল্টা কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে রাজনৈতিক মহল।
আজ নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশবাসীকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন: “দেশবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং ভোটচুরির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই।” “পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্য আজ নির্বাচনগুলোতে ভোট লুঠের জবাব চায়।দেশের ছাত্র, যুব, মহিলা থেকে শুরু করে নাগরিক সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষকে এই প্রতিবাদে সামিল হতে হবে।” তাঁর সংযোজন, “যখন দেশের ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েন, তখন নীরবতা কোনও বিকল্প হতে পারে না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ভোটচুরি’ ও ‘ভোটারদের হুমকি’ সংক্রান্ত বয়ানের পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচক এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে “আইরনি অব দ্য সেঞ্চুরি” বা শতাব্দীর সেরা প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে: যে নেত্রীর জমানায় পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে না দেওয়া, দেদার ছাপ্পা ভোট এবং লাগামহীন বুথ দখলের ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর মুখে ‘ভোটলুঠ’ ও ‘গণতন্ত্র’ শব্দগুলি অত্যন্ত বেমানান। অতীতে এ রাজ্যে ভোটের পর যেভাবে বিরোধী কর্মীদের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেছিল। আজ ক্ষমতা হারানোর পর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ভোটারদের হুমকির মুখে পড়ার কথা বলেন, তা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি অনেকটাই আলগা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং জাতীয় স্তরে নিজেকে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতেই এই ‘INDI’ জোটের কর্মসূচীকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাংলার মানুষ যেভাবে বুথ স্তরে ভোটলুঠের সাক্ষী থেকেছেন, তাতে দিল্লির মঞ্চে গিয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করলে তা উল্টে তাঁর নিজের দিকেই বুমেরাং হয়ে ফিরবে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
