প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর পায়ের তলার মাটি যখন ক্রমেই আলগা হচ্ছে, ঠিক তখনই আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর হঠাৎ দিল্লির বিমান ধরছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সিইসি (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে INDIA জোটের শরিক দলগুলির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দরবারে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী রাজধানী পৌঁছানোর আগেই এই সফর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন টানাপোড়েন, তীব্র উপহাস আর চরম কটাক্ষের বন্যা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নিজের রাজ্যে যখন একের পর এক হেভিওয়েট সাংসদ দল ছাড়ছেন, তখন সেই ঘর গোছানোর কাজ ফেলে দিল্লির দরবারে গিয়ে আন্দোলনের নাটক করা আসলে এক চরম ‘দিশাহীন রাজনীতির’ প্রমাণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফরকে তীব্র তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আজ সকালেই কড়া তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “দিল্লিতে যান, ফিরে আসুন, যত খুশি প্র্যাকটিস করুন, তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এই সফর থেকে আদতে কী লাভ হবে? বাংলায় তৃণমূলের আর কোনও অস্তিত্ব বা ভবিষ্যৎ বাকি নেই। মানুষ তাঁদের বিরোধী আসনে বসার জন্য ভোট দিয়েছিল, কিন্তু নিজেদের ভূমিকা পালন করার বদলে তাঁরা বারবার দিল্লি ছুটে যাচ্ছেন। এর কোনও মানে হয় না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফরকে ঘিরে সবচেয়ে বড় রসদ পেয়েছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল সূত্রের খবর, ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে বিরোধী জোটের ১০ জনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের, যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের জন্য কোনও চূড়ান্ত বা নিশ্চিত সময় (Appointment) দেওয়া হয়নি! রাজনৈতিক মহল কটাক্ষ করে বলছে, যেখানে খোদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সবুজ সংকেত এখনও নিশ্চিত নয়, সেখানে তড়িঘড়ি দিল্লি ছুটে গিয়ে বিরোধী জোটের নেতারা আসলে কার সময় নষ্ট করতে চাইছেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লির বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ই আজ দুপুরে দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ এনসিপিআই (NCPI) সাংসদরা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব ও সায়নী ঘোষদের মতো হেভিওয়েট নেতারা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে অন্য শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। হাঁড়ি যখন নিজের ঘরেই পুড়ছে, তখন সেই অভ্যন্তরীণ জ্বলন্ত সমস্যা সমাধান না করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে ইভিএম হ্যাকিংয়ের পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটার এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিরোধীদের স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় ইভিএম বা নির্বাচন কমিশনের জন্য তৃণমূল হারেনি, হেরেছে তাদের সিন্ডিকেট আর অপশাসনের জন্য। এখন নিজেদের সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই দিল্লিতে গিয়ে ‘ভ্যানিশ কুমার’ স্লোগান তুলে আমজনতার দৃষ্টি ঘোরানোর এক শেষ মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
