Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘২২০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল!’ ২০ দিনের নীরবতা ভেঙে মমতার ফেসবুক লাইভ, ‘পরাজয়ের অজুহাত’ নাকি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা? উঠছে প্রশ্ন!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজয়ের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২০ দিন। ভোট গণনার দিন থেকেই কার্যত রাজনৈতিক অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে রবিবার বিকেলে নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি ফেসবুক লাইভ করেন তিনি। কিন্তু সেই লাইভেও তাঁর গলায় শোনা গেল না আত্মসমীক্ষা বা পরাজয় স্বীকারের সুর। উল্টে নিজের পরাজয় ঢাকতে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী শিবিরের দিকেই আঙুল তুললেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী।রবিবারের লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ২২০ থেকে ২৩০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের কারণে নাকি সেই ফলাফল হতে দেওয়া হয়নি! রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, যেখানে বাস্তব ফলাফলে সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে কোন অলৌকিক অঙ্কের ওপর ভিত্তি করে তিনি এই ২২০-২৩০টি আসনের দাবি করছেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক উপায়ে গঠিত নতুন সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি একে ‘অনৈতিক পরাজয়’ বলে অভিহিত করেন এবং নিজেদের ‘নৈতিক জয়’ হয়েছে বলে দাবি জানান। রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের মতে, পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরেই তৃণমূল নেত্রী এখন কাল্পনিক আসনের গল্প ফেঁদে দলের ক্ষুব্ধ ও হতাশ কর্মীদের চাঙ্গা করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর সামনে আসছে। বহু বিধায়ক ও নেতাকর্মী নেতৃত্বের একাংশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, দলের এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন এবং কর্মীদের ক্ষোভ থেকে নজর ঘোরাতেই এখন ‘আসন চুরির’ তত্ত্ব খাড়া করা হচ্ছে। জনতা জনার্দনের দেওয়া বাস্তব রায়কে সম্মান জানানোর পরিবর্তে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর দায় চাপানোর এই পুরনো রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেত্রীর এই কাল্পনিক দাবিকে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই বলতে নারাজ বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব।

Exit mobile version