Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘২১ জুলাইয়ের আগে লোটা-কম্বল নিয়ে কেটে পড়ুন!’ চরম দলবদলের আবহে নাম না করে কাদের চরম আলটিমেটাম দিলেন মমতা? তোলপাড় বাংলা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ চড়ছে পারদ, আর তারই মাঝে এবার দলত্যাগী ও ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোয়েল মল্লিক থেকে শুরু করে মণীশ গুপ্ত— একের পর এক নেতার দল ছাড়ার হিড়িকের মধ্যে আজ ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক রূপ ধারণ করলেন দলনেত্রী। কোনো রকম রাখঢাক না রেখেই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দল ভাঙার এই খেলায় তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। উলটে যাঁরা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া হুঁশিয়ারি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়ে গিয়েছে।

আজ ফেসবুক লাইভে এসে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানানোর পরই দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এজেন্সির চাপ এবং মামলার কারণে কিছু নেতার দলবদলের মানসিকতাকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে আরও মাথা নত করার চাপে, কেসের চাপে, ইডি-সিবিআইয়ের চাপে… তাঁদের অনুরোধ করে বলব, ২১ জুলাইয়ের আগে লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছা চলে যান!” তৃণমূল নেত্রীর এই ‘লোটা-কম্বল’ তত্ত্ব এবং ২১ জুলাইয়ের ডেডলাইন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, দল ছাড়ার জন্য তিনি আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগের সময়টাকেই বেছে নিতে বলেছেন, যাতে দলের আসল রূপ এবং অনুগত সৈনিকদের চিনে নেওয়া সহজ হয়।

লাইভে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মমতা আরও বলেন, “আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, দয়া করে সেই দলটিকে কালিমালিপ্ত করবেন না। আপনারা যে যার মতো চলে যেতেই পারেন, কিন্তু দলটাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করবেন না।” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ, সিবিআই ও ইডির ভয় দেখিয়ে পরিবার এবং নিজেদের বাঁচানোর জন্য নেতাদের বাধ্য করা হচ্ছে। আর এই পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘বিজেপির প্যাকেজ’ বলে কটাক্ষ করেন।

সবচেয়ে বড় চমক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, আজ যাঁরা প্রকাশ্যে দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বা যাওয়ার নাটক করছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই গোপনে এখনও তাঁদের (কালীঘাটের) সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অর্থাৎ, দল ছাড়লেও অনেকেই যে ‘ডাবল গেম’ খেলছেন, সেই সত্যও আজ লাইভে এনেছেন তিনি। এখন দেখার, দলনেত্রীর এই চরম আলটিমেটাম এবং ‘২১ জুলাইয়ের ডেডলাইন’ শোনার পর তৃণমূলের অন্দরে থাকা বাকি ক্ষুব্ধ বা বিদ্রোহী নেতারা কী পদক্ষেপ নেন। তাঁরা কি সত্যিই ২১ জুলাইয়ের আগে দল ছাড়বেন, নাকি মমতার এই রুদ্রমূর্তি দেখে পিছু হটবেন? সেটাই এখন দেখার।

Exit mobile version