Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজাবাজারে মুখ পুড়তেই কালীঘাটে ‘ছুরি হামলা’র গল্প? মমতার বাড়ির সামনে রহস্যময়ী মহিলাকে ঘিরে তোলপাড়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মঙ্গলবারের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। একদিকে দুপুরে রাজাবাজারে পুলিশের একটি ব্যারিকেডেই মুখ থুবড়ে পড়ল ‘মমতা তৃণমূল’-এর মেগা মিছিল। আর তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, বিকেলে কালীঘাটে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বাইরে এক রহস্যময়ী মহিলার ‘ছুরি হামলা’র চেষ্টাকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। রাজাবাজারের চরম ব্যর্থতা এবং দলনেত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই ‘হামলা তত্ত্ব’ সামনে আসায় তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। এটি কি সত্যিই কোনো নিরাপত্তা চ্যুতি নাকি রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে সস্তা সহানুভূতির নাটক? উঠছে বড় প্রশ্ন।

কালীঘাটের মিলন সংঘের পুজো উদ্বোধনে যাওয়ার সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এক মাদকাসক্ত মহিলা ছুরি নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির সামনে আসার চেষ্টা করে বলে দাবি করেছেন দোলা সেন ও কুণাল ঘোষরা। তবে এই ঘটনা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে চরম চাপানউতোর। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের স্পষ্ট দাবি, রাজাবাজারের মত সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় দলের ছাত্র-যুবদের পুলিশের মুখে ফেলে নিজে ঘরে বসে থাকা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে যে তীব্র সমালোচনার তির ধেয়ে আসছিল, তা থেকে আমজনতার নজর ঘোরাতেই তড়িঘড়ি এই ঘটনাকে ‘প্রাণঘাতী হামলা’ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি শিবিরের এক শীর্ষ নেত্রীর কটাক্ষ, “রাজাবাজারে যখন দলের কোনো ম্যাজিক খাটল না, সাধারণ মানুষ যখন উৎসবের মুখে তৃণমূলের বেআইনি জ্যাম করাকে প্রত্যাখ্যান করল, তখনই লাইমলাইটে ফিরতে এক মাদকাসক্ত মহিলার কাণ্ডকে রাজনৈতিক ড্রামায় রূপ দেওয়া হলো।”

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অতীতে বারবার মমতার বিভিন্ন ছোটখাটো চোট বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতি দেখা গিয়েছিল, বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে তা আর খাটছে না। কারণ এবার পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ তৎপর ও নিরপেক্ষ।
সমালোচকদের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর কড়া শাসনে পুলিশ এই রহস্যময়ী মহিলাকে সাথে সাথেই গ্রেফতার করে আসল সত্যিটা সামনে এনে দিয়েছে। যার ফলে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মমতা তৃণমূল’ যে বড়সড় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার বা রাজ্য জুড়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে শোরগোল তোলার ছক কষেছিল, তা শুরুতেই ভেস্তে গেল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজাবাজারের মিছিলে কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গেলেন না, এই প্রশ্নের উত্তর এড়াতেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কালীঘাটের এই ঘটনার সাফাই দেওয়া হচ্ছে। দলের নিচুতলার কর্মীদের প্রশ্ন, নেত্রী যদি রাজাবাজারের মতো নিজেদের পুরনো শক্তিশালী ঘাঁটিতে যেতে ভয় পান, তবে কি কেবল কালীঘাটের পুজোর মঞ্চ আর বাড়ির চার দেওয়ালের নিরাপত্তা বলয়টুকুই তাঁর শেষ রাজনৈতিক ভরসা? সব মিলিয়ে, রাজাবাজারের রাজনৈতিক বিপর্যয়কে ধামাচাপা দিতে কালীঘাটের এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা ‘মমতা তৃণমূল’-এর চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

Exit mobile version