প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় এবার চরম দেউলিয়া রাজনীতির আশ্রয় নিলেন ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ঠিক ২ টোয়, উত্তর কলকাতার রাজাবাজার থেকে শুরু হয়ে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত একটি তথাকথিত প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তাঁর দল। তবে দেবীপক্ষের তৃতীয়ায় সাধারণ মানুষের উৎসবের আমেজ মাটি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ধিক্কার ও উপহাসের ঝড় উঠেছে। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, দিল্লির ফ্লপ শো এবং বাংলায় ভরাডুবির ধাক্কা সামলাতে না পেরে কলকাতার বুকে কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা তৈরির এই মরিয়া ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছেন খোদ মমতা।
তৃণমূলের প্রচারপত্রে দাবি করা হয়েছে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অন্যায়ভাবে আটক’-এর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ। তবে এই ইস্যুতেই মমতাকে তুলোধোনা করেছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলার কোটি কোটি মানুষ তৃণমূলকে নবান্ন থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চরম মানসিক হতাশায় ভুগছেন। নিজেদের সীমাহীন দুর্নীতি, তোলাবাজি আর কুশাসনের কারণে যে এই ঐতিহাসিক ভরাডুবি হয়েছে, তা স্বীকার করার সৎ সাহস তাঁর নেই। আর সেই কারণেই দেশের নির্বাচন কমিশন এবং সাংবিধানিক সংস্থাগুলির ওপর দায় চাপিয়ে সস্তার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার চেষ্টা করছেন তিনি—যা অত্যন্ত হাস্যকর ও নজিরবিহীন।
সম্প্রতি দিল্লিতে গিয়ে সস্তার প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে আইন অমান্য করে নাটক তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতারা। সেখানে দিল্লি পুলিশ আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিলে তাকে ‘নিপীড়ন’ বলে চিৎকার শুরু করে দলটির একাংশ। তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সমালোচকরা বলছেন, দিল্লিতে পাত্তা না পেয়ে এখন দেবীপক্ষের তৃতীয়ায় খাস কলকাতার রাজাবাজার ও পার্ক সার্কাসের মতো চরম ব্যস্ত এবং স্পর্শকাতর রুটে মিছিল নামিয়ে সাধারণ মানুষকে শাস্তি দিচ্ছেন মমতা। উৎসবের মুখে যখন শহরবাসী কেনাকাটা ও পুজো পরিক্রমায় ব্যস্ত, তখন এই বিপুল মিছিলের জেরে গোটা মধ্য ও উত্তর কলকাতা স্তব্ধ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, “নিজেদের রাজনৈতিক খরা কাটাতে কেন আমাদের পুজো এবং রুটি-রুজির ওপর কোপ বসাচ্ছেন মমতা? দিল্লি পুলিশের তাড়া খেয়ে এসে কলকাতায় কেন এই ক্ষমতার দাপট?”
তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা চলায় এই মিছিলে লোক হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। আর তাই বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্র ও যুবদের সামনের সারিতে ঠেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে একের পর এক দুর্নীতিতে বিদ্ধ হয়ে ছাত্র সমাজের কাছে এমনিতেই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন মমতা। এখন নিজের পিঠ বাঁচাতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জোর করে মিছিলে এনে ভিড় বাড়ানোর যে চেষ্টা তিনি করছেন, তা ছাত্র সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সবচেয়ে বড় চমক হলো, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এই মিছিলে শেষ পর্যন্ত নিজে হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছে তাঁর দল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কটাক্ষ, জাতীয় স্তরে সহানুভূতির হাওয়া তোলার সমস্ত নাটক ফ্লপ হওয়ার পর, নিজের গড়ে দাঁড়িয়ে আর কোনো ‘ফ্লপ শো’-এর অংশীদার হতে চাইছেন না তিনি। তাই হারের গ্লানি ঢাকতে তিনি মিছিল থেকে সুকৌশলে দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। পায়ের তলার মাটি হারিয়ে মমতা এখন যে দেউলিয়া ও জনবিরোধী রাজনীতির রাস্তায় নেমেছেন, রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাসের এই মিছিলই তাঁর দলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
