Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্যালটে প্রত্যাখ্যানের পর ‘হ্যান্ড মাইক’ হাতে মরণপণ লড়াই! কার বিরুদ্ধে এই জেদ, প্রশ্ন বাংলার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ব্যালট বাক্সে গণদেবতার চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হওয়ার পর, এই প্রথমবার পরাজয়ের স্বাদ নিয়ে ময়দানে পা রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে জয়ের দিনে যে রাজপথকে তিনি উৎসবের আঙিনা বানিয়ে তুলতেন, আজ পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে সেই রাজপথকেই বেছে নিলেন ‘ধর্ণামঞ্চ’ হিসেবে। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে হ্যান্ড মাইক হাতে তাঁর আকুল কণ্ঠস্বর শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন— এটা কি সহানুভূতি অর্জনের আদর্শিক লড়াই, নাকি বিপুল পরাজয় মেনে নিতে না পারার এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ছটফটানি?

রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে মাইক বাজানোর অনুমতি না পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছেন। কিন্তু প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর যেকোনোও সংবেদনশীল এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত আদালতের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে চলাই পুলিশের আইনি কর্তব্য। যে পুলিশ এতদিন তাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলত বলে বিরোধীরা দাবি করতেন, আজ পরাজয়ের পর সেই প্রশাসনের নিরপেক্ষ বা নিয়মমাফিক পদক্ষেপকেও তিনি ‘আমাকে আটকানোর চেষ্টা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন। হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে আবেগতাড়িত ভাষণ দেওয়া কি তবে সস্তা সহানুভূতি কুড়ানোর এক পরিকল্পিত কৌশল মাত্র?

ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে এনেছেন বাবা সাহেব অম্বেডকর এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ। সংবিধানে বিশ্বাস এবং মহাত্মার অহিংসার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার শপথ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যখন ক্ষমতার অলিন্দে থেকে দিনের পর দিন রাজ্যের বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার অভিযোগ উঠেছিল, যখন একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীদের, তখন কি এই সংবিধান বা মনীষীদের বাণী মনে পড়েছিল? আজ যখন জনতা নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন আচমকা সংবিধানকে ঢাল করে নিজেকে ‘অত্যাচারিত’ হিসেবে তুলে ধরা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আমজনতার মনেই সন্দেহ দানা বাঁধছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার ছেড়েছেন— “এই অত্যাচার যত দিন চলছে, তত দিন মোকাবিলা করব। করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে।” ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক পবিত্রতম স্লোগানকে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে টেনে আনা কতটা মার্জিত? ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী যে ডাক দিয়েছিলেন, দেশের একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের রায়ের বিরুদ্ধে সেই একই স্লোগান দেওয়া কি পরোক্ষভাবে জনগণের রায়কেই অপমান করা নয়? ভোট তো কোনও বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল না, ছিল দেশেরই নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রকাশ। সেই রায়ের পর কার বিরুদ্ধে এই ‘মরনপণ’ লড়াই?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনমনীয় মনোভাব এবং “যেখানে পারব বসে পড়ব”- এই জাতীয় মন্তব্য আদতে দলীয় কর্মীদের ধরে রাখার এক মরিয়া চেষ্টা। তবে রাজনীতির ময়দানে পরাজয় মেনে নিয়ে নতুন করে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করার মধ্যেই প্রকৃত দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। রাজপথের জেদ ধরে রেখে রাজ্যকে এক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কতটা ভালো চোখে নেবেন, তা সময়ই বলবে।

Exit mobile version