Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহাসংকটে কালীঘাট! বিদ্রোহ রুখতে এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলের আসরে স্বয়ং মমতা, কটাক্ষ বিরোধী শিবিরের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঝড় বোধহয় আগে কখনও ওঠেনি। দলের ২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার তৃণমূল বিধানসভা পরিষদীয় দলে যে নজিরবিহীন ভাঙন এবং বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে, তা সামাল দিতে এবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক নেত্রীর মতো শেষ মরিয়া চেষ্টা শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৩ জুন ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে দলত্যাগী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করার পর, জোড়াফুল শিবিরের ভিতটাই কার্যত নড়ে গেছে। এই বেনজির বিদ্রোহের পর, আজ (৫ জুন) কালীঘাটে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিক্ষুব্ধ এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের ক্ষোভ প্রশমন করাই এখন কালীঘাটের প্রধান লক্ষ্য। তবে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক নিয়ে বিরোধী এবং বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিবিরের চাবুকের মতো টিপ্পনী—”তাসের ঘর একবার ভাঙতে শুরু করলে, বৈঠক করে কি তা আর জোড়া লাগানো যায়?”

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, দল ভাঙা রুখতে এবং আরও বড় বিপর্যয় এড়াতে নেত্রী নাকি নিজেই হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের বিদ্রোহী বিধায়কদের জনে জনে ফোন করে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। বিরোধী শিবিরের ধারালো প্রশ্ন—যে নেত্রী একসময় একচ্ছত্র দাপটে দল চালাতেন, আজ নিজের হাতে তৈরি করা নেতাদের ধরে রাখতে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করতে হচ্ছে কেন? এর চেয়ে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় একটা দলের জন্য আর কী হতে পারে? এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিদ্রোহীদের প্রথম বৈঠকে ৫৮ জনের মধ্যে মাত্র ৩২ জন উপস্থিত হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের একাংশ দাবি তুলেছেন যে মমতাদিকে ‘চিফ অ্যাডভাইজার’ নয়, বরং ‘চেয়ারপার্সন’ হিসেবেই রাখতে হবে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ -“ভাইপো-তন্ত্রের” (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেও, দিদিমণির রাজনৈতিক ছায়া থেকে বেরোতে গিয়েও কি বিদ্রোহীদের একাংশের পা কাঁপছে? নাকি এটি ধমক-চমক এড়ানোর নতুন কোনো চাল?

৩১ মে-র বৈঠকে যেখানে মাত্র ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত হওয়ায় সভা বাতিল করতে হয়েছিল, আজ সেখানে কোন রণকৌশল তৈরি হবে? একদিকে স্পিকার যেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের বহিষ্কারের দাবিকে আইনি দিক থেকে নাকচ করে দিয়েছেন, অন্যদিকে দলের মূল সংগঠনগুলো এখন খাদের কিনারায়। আজ কি নেত্রী পারবেন দলত্যাগ বিরোধী আইনের জুজু দেখিয়ে বা পুরোনো আবেগের তাস খেলে এই মহাসংকট রুখতে? প্রশ্ন কিন্তু রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।

নির্বাচনের ধাক্কা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের জেরে তৃণমূলের প্রতীক ও অস্তিত্ব বাঁচানোর এক করুণ চেষ্টা দেখা যাচ্ছে আজকের বৈঠকে। দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই যে এই বিদ্রোহের সূচনা, তা আজ আরও একবার স্পষ্ট। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, যে দলটা নিজের অহংকার আর দুর্নীতির দায়ে আজ ভেতর থেকে ক্ষয়ে যাচ্ছে, বৈঠক করে বা কমিটি বদল করে বাংলার মানুষের ক্ষোভ দমানো যাবে না।

Exit mobile version