Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহানাটকীয় মোড় উত্তরকন্যায়! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর ‘লাইন’ দিলেন ১১ তৃণমূল বিধায়ক? জল্পনা তুঙ্গে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এ যেন এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় দৃশ্য! একসময়ের চরম রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে এবার কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? মঙ্গলবার শিলিগুড়ির প্রশাসনিক ভবন ‘উত্তরকন্যা’-য় আয়োজিত হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে সেই জল্পনাই উস্কে দিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরবঙ্গ সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ডাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে একযোগে উপস্থিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক।বিগত কয়েক বছর ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে চরম সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবারের এই বৈঠক যেন এক ধাক্কায় সেই চেনা ছবিটা বদলে দিল।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া প্রশাসনিক তৎপরতা এবং উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের জিরো-টলারেন্স নীতির পরেই বিরোধীদের এই যোগদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।বৈঠক শেষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “রাজনীতির ময়দানে রাজনীতি হবে। কিন্তু উন্নয়নের কাজ প্রতিটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে হবে।” মন্ত্রীর এই বয়ানের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সরকারের কাজের গতি এবং উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সামনে দাঁড়িয়ে বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের কাছে আর কোনো বিকল্প রাস্তা খোলা ছিল না। এলাকার মানুষের স্বার্থেই হোক কিংবা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার্থেই হোক, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনের নীতি মেনে একাসনে বসতে বাধ্য হচ্ছেন বিরোধীরা।

এদিনের বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল উত্তরবঙ্গের প্রতি বছরের অভিশাপ ‘বন্যা পরিস্থিতি’। বর্ষা পুরোপুরি আসার আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে রাজ্য প্রশাসন যেভাবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা দেখে বিরোধী বিধায়কেরাও সাধুবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছেন। পাহাড়ের ধস এবং সমতলের নদী ভাঙন রোধে সেচ দপ্তর ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ১১ জন তৃণমূল বিধায়ককেও তাঁদের এলাকার সমস্যার কথা বলার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে কোনো দলবাজি বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক বৈঠক নয়; বরং রাজ্যে যে ‘সুশাসনের রাজত্ব’ এবং দলমত নির্বিশেষে উন্নয়নের ধারা তৈরি হচ্ছে, এটি তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। বিরোধীদের এই যোগদান এবং মন্ত্রীর নমনীয় অথচ দৃঢ় বার্তা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version