প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দল এবং তার ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ (Twin Flower with Grass) প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ECI) মমতাপন্থী বনাম বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। তবে যেকোনো চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েও একবিন্দু পিছু হঠতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, আইনি লড়াইয়ে যদি কোনো কারণে মূল প্রতীক হাতছাড়াও হয়, লড়াই জারি রাখতে ইতিমধ্যেই নিজের গোপন ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের রায় যদি কোনো কারণে বিপক্ষে যায়, তবে নতুন দল বা নতুন প্রতীক নিয়ে ময়দানে নামার জন্য সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি রাখা হয়েছে।
১৯৯৭-৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ঘাসের ওপর জোড়াফুল প্রতীক বেছে নিয়ে নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত আড়াই দশকে বাংলার মানুষের আবেগের সঙ্গে এই ‘ঘাসফুল’ প্রতীকটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই ‘প্ল্যান বি’ অনুযায়ী, মূল প্রতীক হাতছাড়া হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুলের থিম থেকে একেবারেই সরছেন না।বিকল্প কৌশল হিসেবে অন্য কোনো ধরণের ফুল বা ভিন্ন শৈলীর কোনো ফুলের নকশাকেই নতুন নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এর মূল উদ্দেশ্য হলো, দলের নাম বা প্রতীকে আইনি বদল এলেও সাধারণ ভোটার ও গ্রামীণ স্তরের মানুষের মনে ‘তৃণমূল মানেই ফুল’—এই চাক্ষুষ আবেগ এবং পরিচিতি যাতে কোনোভাবেই ধাক্কা না খায়।
তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের এই আইনি লড়াই এখন নির্বাচন কমিশনের দরবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে মমতাপন্থী শিবিরের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া একাধিক ডেডলাইন বা সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পক্ষ এখনও তাদের সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার চূড়ান্ত প্রমাণ বা নথি পেশ করতে পারেনি।ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার আবেদন জানানো হয়েছে। দলের প্রবীণ সাংসদ তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দলত্যাগী ও বিদ্রোহীদের “বিশ্বাসঘাতকদের দল” হিসেবে তোপ দেগেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মূল দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই চলছে এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সঠিক ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কমিশনের রায়ের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আগাম ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত রাখার খবর চাউর হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে কলকাতা হাইকোর্ট এবং আইনি মঞ্চে যেমন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই পুরোদমে চালাচ্ছে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের যেকোনো সম্ভাব্য প্রতিকূল রায়ের মোকাবিলা করতেও কোমর বাঁধছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রতীক বদলালেও মানুষের মনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং ‘ফুল’ চিহ্নের পরিচিতি ধরে রেখেই যে তিনি কামব্যাক করতে চান, এই গোপন পরিকল্পনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
