প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-চরম নাটকীয়তা ও টানটান স্নায়ুযুদ্ধের অবসান! নির্বাচন কমিশনের কড়া ডেডলাইন মেনে শুক্রবার সকাল ১১টার ঠিক আগেই নিজেদের নতুন নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’। জোড়াফুল প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পর, ব্যালট পেপারে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কোন নাম ও চিহ্নকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে অবশেষে পর্দা সরল।
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট গাইডলাইন ছিল—মূল দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। তবে মূল দলের নামের সাথে সংযোগ রেখে অন্য নাম চাওয়া যেতে পারে। সূত্রের খবর, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পাঠানো ৩টি বিকল্প নামের তালিকায় একদম প্রথম পছন্দ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নামের ছোঁয়া রাখা হয়েছে। দলের সম্ভাব্য নতুন নাম হিসেবে ‘তৃণমূল কংগ্রেস-মমতা’ বা ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল-মমতা’-র মতো নামগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিলমোহর চেয়েছে কালীঘাট শিবির। ঘাসফুল ও জোড়াফুল প্রতীক চলে গেলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই যে দল উপনির্বাচনের বৈতরণী পার করতে চাইছে, এই নাম নির্বাচন তারই বড় প্রমাণ।
কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীক (Free Symbols)-এর মধ্য থেকে ৩টি সম্ভাব্য চিহ্নের পছন্দক্রমও ইমেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছে কালীঘাট। যেহেতু ঘাসের ওপর জোড়াফুল প্রতীকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতে আঁকা, তাই প্রতীক হারানোর ক্ষোভের মাঝেই তারা এমন কিছু প্রতীক বেছে নিয়েছে যা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়।
কালীঘাটের পাশাপাশি আজ শুক্রবার সকালে নিজেদের পছন্দের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও। ঋতব্রতপন্থী শিবিরের পছন্দের তালিকায় প্রথম দুটি নাম হলো: ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস”ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। আজ বিকেলের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরের জমা দেওয়া তালিকা চূড়ান্তভাবে খতিয়ে দেখে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করতে পারে। আর এই আবহে আজ বিকেলেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠক করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
