প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে এসআইআর যেভাবে হচ্ছে, তাতে অত্যন্ত চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাদের চাপ বাড়ছে বুঝেই তারা কৌশলগতভাবে এখন প্রশাসনকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে ডেকে হয়রান করাচ্ছে। আর এটা খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে বিজেপি। তাই আজ যখন এসআইআরের চাপে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, ঠিক তখনই কলকাতায় রীতিমত বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একেবারে সদলবলে রাজ্যপালের দরবারে পৌঁছে গেলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, এই রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই তার বিরোধিতা করতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ তারা খুব ভালো মতই জানে যে, এসআইআর হলে অনুপ্রবেশকারীদের এবং অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে। আর তাদের নাম বাদ গেলে যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে না, তা বুঝতে পেরেই যে তাদের এই বিরোধিতা, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিরোধীরা। তবে এখন এসআইআর যখন সঠিকভাবে করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, তখন তৃণমূল প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে ডেকে পাঠিয়ে তাদের হয়রান করে এসআইআরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বলেই মনে করছে বিরোধীরা। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যসূচি অন্য তারিখ দেওয়ার কারণে আজ সকালেই সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুবাবু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন। আর সেই মতই দিল্লিতে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, ঠিক তখনই পাল্টা বাংলায় লোক ভবনে পৌঁছে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা।
সূত্রের খবর, কিছুক্ষণ আগেই শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির ১২ জন বিধায়ক এবং বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া ও সঞ্জয় সিংহ লোকভবনে পৌঁছে যান। কিন্তু কি কারণে তারা হঠাৎ রাজ্যপালের দরবারে গিয়েছেন? যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, বিজেপি খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছে যে, সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনকে দিয়ে হয়রান করছে এবং এসআইআরে ডেকে পাঠাচ্ছে। আর তারপরেই সেই শুনানি কেন্দ্রে আইন হাতে তুলে নিয়ে গোটা ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে তৃণমূলেরই একটা অংশ। তাই প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারন মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে, তাতে প্রশাসনের যারা এই কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাতেই বিজেপির রাজ্যপালের কাছে পৌঁছে যাওয়া। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।
