প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্ষমতা বদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া-শিবির আজ আক্ষরিক অর্থেই খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতা হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া মমতার দল যখন কার্যত রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দিল্লি দরবারে দলবদলু নেতাদের দৌড়ঝাঁপ নিয়ে চরম নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং দাবি করেছেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে গিয়ে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক করেছেন। এই ‘শাহি-সাক্ষাৎকার’ প্রকাশ্যে আসতেই বাংলার রাজনীতির সুবিধাবাদী চরিত্রকে কড়া ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছেন আমজনতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার সবকিছুই আজ ধ্বংসের মুখে। কিন্তু এই চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দিনেও আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দোদুল্যমান অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের বড় অংশের দাবি, এতদিন ধরে যে নেত্রীর ছায়াসঙ্গী হয়ে সমস্ত রাজনৈতিক ফায়দা ও ক্ষমতার সুখ ভোগ করলেন, আজ সেই মমতাই যখন রাজনৈতিকভাবে শেষ, তখন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও পিঠ বাঁচাতে মোদী-শাহের পায়ে লুটিয়ে পড়তেই কি এই গোপন দৌড়ঝাঁপ? তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় যে সমালোচনাটি উঠে আসছে, তা হলো বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকা নিয়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ স্পষ্ট ভাষায় ধিক্কার জানিয়ে বলছেন, সুদীপ বা নয়নার মতো চতুর ও দলবদলু নেতাদের যদি ফের ক্ষমতার অলিন্দে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে তা বিজেপির নিজস্ব ভাবমূর্তি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের জন্য চরম অপমানজনক হবে। নয়না যদি মমতার ডুবন্ত নৌকা ছেড়ে পিঠ বাঁচাতে এই পক্ষে চলেও আসেন, তবে তিনি বিজেপির জন্য কোনও লাভজনক সম্পদ তো হবেনই না, উল্টে বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবেন বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দিল্লির সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের বিবরণ দিয়ে একপ্রকার জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অমিত শাহ যখন নয়নাকে জিজ্ঞেস করেন যে বিধানসভা নির্বাচনে জিততে কেমন কষ্ট হয়েছে, তখন নয়না সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, “আপনারা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন, তাতে তো কিছুটা কষ্ট হয়েছেই”! এদিকে নিজের রাজনৈতিক ডিগবাজিকে ঢাকতে সুদীপ একই ছাদের নিচে থাকা সৌগত রায় ও তথাগত রায়ের ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের তুলনা টেনে এনেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের কড়া তোপ—সৌগত বা তথাগত বাবুরা কোনও দিন নিজেদের ব্যক্তিগত আখের গোছাতে বা পিঠ বাঁচাতে তলে তলে অন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাসভবনে গিয়ে এমন গোপন দরবার বা আঁতাত করেননি। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার তীব্র ইচ্ছাপ্রকাশকেও স্রেফ নতুন ক্ষমতার জোয়ারে গা ভাসানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন সমালোচকরা। একদিকে সব হারিয়ে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসহায় আত্মসমর্পণ, অন্যদিকে সুদীপ-নয়নাদের মতো সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের এই পল্টিবাজির রাজনীতি—সব মিলিয়ে বাংলার সচেতন নাগরিকরা এই নোংরা ক্ষমতার খেলাকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করছেন। এখন দেখার, এই গণরোষ ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সুযোগসন্ধানী নেতাদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে।
