Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার জমানার তৈরি বাহিনী কি এবার অতীত? স্কুল-কলেজে এক বড় ধাক্কার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও কলেজ স্তরের শিক্ষা এবং শৃঙ্খলা পরিকাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, চরিত্র গঠন এবং রাষ্ট্রপ্রেম জাগিয়ে তুলতে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানার শিক্ষানীতির ঠিক বিপরীতে হাঁটার বড় পদক্ষেপ নিল বর্তমান বিজেপি সরকার। আজ, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট আশ্বাস দেন, “আমাদের সরকার ফের স্কুল ও কলেজে এনসিসি (NCC), এনএসএস (NSS) এবং ব্রতচারী ফিরিয়ে আনবে”। মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষা মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুল-কলেজ থেকে এনসিসি (NCC) প্রশিক্ষণের পরিধি অনেকটাই কমিয়ে নিজস্ব ধাঁচে ‘জয়হিন্দ বাহিনী’ চালু করা হয়েছিল। সেই নীতিকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিগত সরকার অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে স্কুল-কলেজ থেকে এনসিসি-র গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছিল। বদলে নিজেদের মতো করে বাহিনী শুরু করেছিল। কিন্তু এনসিসি-র কোনও বিকল্প হয় না। এতে প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই নিয়মানুবর্তিতা বাড়ে এবং মনের মধ্যে দেশপ্রেমের আদর্শ তৈরি হয়।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুধু এনসিসি নয়, তার পাশাপাশি এনএসএস (National Service Scheme) এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কৃষ্টি ও শারীরিক চর্চা ‘ব্রতচারী’ শিক্ষাকেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান, তিনি নিজে কলেজের এনএসএস (NSS) ক্যাডেট হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তাই যুবসমাজের চরিত্র গঠনে সমাজসেবামূলক এই ধরনের সামাজিক প্রশিক্ষণের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে বলেই মনে করে বর্তমান প্রশাসন।

নবান্ন সূত্রে খবর, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির সমস্ত স্কুল ও কলেজে যাতে বাধ্যতামূলকভাবে এনসিসি প্রশিক্ষণ চালু করা যায়, তার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে দ্রুত পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর কাছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলির স্কুল-কলেজে এনসিসি চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই মতোই কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করছে নবান্ন। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাংলার ছাত্র সমাজকে এক নতুন শৃঙ্খলার পাঠ দেবে বলেই আশা করছে শিক্ষাবিদদের একাংশ।

Exit mobile version