প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি এখন অবাস্তব সংখ্যাতত্ত্বের আশ্রয় নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই যখন সব সমীক্ষা বিজেপির বিপুল জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক ‘হাস্যকর’ দাবির পাল্টা দিয়ে ময়দান কাঁপিয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মমতার ২৩০ আসনের দাবিকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে শমীকের পাল্টা হুঙ্কার— “৩২১-এ পৌঁছে যেতে পারেন, কোনো অস্বাভাবিক কিছু নেই! কারণ তৃণমূল পারে না এমন কোনো কাজ নেই।”
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল নাকি ২৩০টি আসন পাবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয় আসন্ন দেখে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই এই মরিয়া চেষ্টা মমতার। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য আজ বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপির জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি বলেন, তৃণমূল যা ইচ্ছে সংখ্যা বলতে পারে, কারণ কারচুপি আর রিগিংয়ের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করাই তৃণমূলের সংস্কৃতি। কিন্তু এবার আর তা হচ্ছে না, কারণ ‘মানুষ এবার খেলা শেষ করে দিয়েছে’।
শমীক ভট্টাচার্য যখন বলেন “তৃণমূল পারে না এমন কোনো কাজ নেই”, তখন তিনি আসলে তৃণমূলের তথাকথিত ‘ভোট মেশিনারি’ এবং ছাপ্পা ভোটের সংস্কৃতিকে চরম বিদ্রুপ করেছেন। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় কেউ যখন ২৩০-এর দাবি করে, তখন তা যে কতটা ভিত্তিহীন, তা বোঝাতেই শমীক ‘৩২১’-এর উপমা টেনেছেন। শমীকের বক্তব্যে সবচেয়ে বড় দিক হলো “মানুষ তৃণমূলকে দেখে করতে পারে না এমন কাজ নেই”। অর্থাৎ, গত দশকে তৃণমূলের দুর্নীতি ও অত্যাচার দেখে বাংলার সাধারণ মানুষ এবার পাল্টা প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি ছিল, যা তারা বুথে করে এসেছেন। শমীকের দাবি অনুযায়ী, মানুষ নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছেন। অধিকাংশ জাতীয় ও রাজ্যস্তরের বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়া হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি প্রমাণ করে যে, বিজেপির অভ্যন্তরীণ রিপোর্টও সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করতে চেয়েছিলেন, শমীক ভট্টাচার্য এক কথাতেই তা নস্যাৎ করে দিলেন। ‘খেলা শেষ’—এই দুটি শব্দ দিয়ে তিনি পরিষ্কার করে দিলেন যে ৪ মে নবান্নে পদ্ম ফোটা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভোট মিটে যাওয়ার পর ভিডিও বার্তা দিয়ে আসন সংখ্যা ঘোষণা করা আসলে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ারই নামান্তর। শমীক ভট্টাচার্য সেই জায়গাতেই আঘাত করেছেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট— ভোট হয়ে গিয়েছে, মানুষের রায় ইভিএমে বন্দি, আর সেই রায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে জেনেই মমতা এখন অবাস্তব সংখ্যার স্বপ্ন দেখছেন। আর রাজ্য বিজেপির সভাপতির এই বিস্ফোরক বার্তার পর বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই ধ্বনি— “তৃণমূলের দাপট শেষ, এবার গেরুয়া বাংলা।”
