প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি তবে বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে? বুধবার যে হুঙ্কার দিলেন মুর্শিদাবাদের ‘বেয়াড়া’ নেতা হুমায়ুন কবীর, তাতে শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে চোরা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের নতুন দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রথম দফার ১৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেই হুমায়ুন স্পষ্ট করে দিয়েছেন—২০২৬-এর লড়াইয়ে তাঁর লক্ষ্য কেবল জেতা নয়, বরং তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো। আর খবরটি কেবল প্রার্থী ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ নেই। হুমায়ুন কবীর এদিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, বহরমপুরে অধীর চৌধুরী দাঁড়ালে তিনি তাঁকে সমর্থনের চেষ্টা করবেন। এখানেই শেষ নয়, নওশাদ সিদ্দিকীর জয়ও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের বিরুদ্ধে এটি হুমায়ুনের মাস্টারস্ট্রোক। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে গুজরাটের বাসিন্দা ইউসুফ পাঠানকে জেতানো যে তাঁর জীবনের “সবচেয়ে বড় ভুল” ছিল, তাও তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মত জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু ভোট বরাবরই তৃণমূলের মেরুদণ্ড। হুমায়ুন কবীর নিজে ২০২৬-এ ১৮২টি আসনে লড়াইয়ের লক্ষ্য রেখেছেন এবং প্রায় ৯০ জন মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।মুর্শিদাবাদে গত নির্বাচনে তৃণমূল যে বিশাল ব্যবধানে জিতেছিল, তার একটি বড় অংশ ছিল হুমায়ুন অনুগামীদের ভোট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুমায়ুন যদি ৩-৫ শতাংশ ভোটও নিজের দিকে টানতে পারেন, তবে অন্তত ১০-১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ উল্টে যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২০২৪-এ ইউসুফ পাঠান ৮৫,০২২ ভোটে জিতেছিলেন। হুমায়ুন এখন দাবি করছেন যে, পাঠানের জয় ছিল এক প্রকারের রাজনৈতিক চাল এবং এখন সেই জয়ের কারিগররাই কংগ্রেসের হাত ধরলে তৃণমূলের সামনে জয় ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর নিজে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নওদা—এই দুই আসন থেকে লড়বেন। বুধবার ঘোষিত উল্লেখযোগ্য কয়েকজন প্রার্থী হলেন, কান্দি থেকে ইয়াসিন হায়দার, বেলডাঙা থেকে সৈয়দ আহমেদ কবীর, সুজাপুর থেকে নাসিমুল হক এবং পূর্বস্থলী উত্তর থেকে বপন ঘোষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের দাবি, মমতার সরকার যখন দুর্নীতি আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত, তখন হুমায়ুন কবীরের এই ‘বিদ্রোহ’ আসলে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে পারে। একদিকে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়া, আর অন্যদিকে অধীর চৌধুরীর মত লড়াকু নেতার প্রতি হুমায়ুনের সমর্থন—সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে তৃণমূলের দুর্গ তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ার অপেক্ষায়।
