প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সভায় বলে থাকেন যে, সবাইকে চাকরি করতে হবে, এমন কোনো অর্থ নেই। যে কোনো কাজই সম্মানের। তাই কেউ চায়ের দোকান নিয়ে বসুন, কেউ চপ, ঘুগনি বিক্রি করুন, সেটাও সম্মানের সঙ্গে করলে বহু টাকা নাকি উপার্জিত হবে। তবে তার এই বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়েছে। বিভিন্ন মানুষজন প্রশ্ন করেন যে, যদি বেকার শিক্ষিত যুবকরা চপ, ঘুগনি বিক্রি করেই কোটি কোটি টাকা উপার্জন করবেন, তাহলে তারা এত পড়াশোনা করছেন কেন? আর যদি এই চপ, ঘুগনি বিক্রি করেই প্রচুর টাকা উপার্জিত হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পরিবার দিয়ে সেটা করে দেখাচ্ছেন না কেন? আর এবার সিঙ্গুরের মাটি থেকে সেই বিষয়টি তুলে ধরেই মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শুধু তাই নয়, যে চপ, ঘুগনি বিক্রির কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা তিনি তার ভাইপোকে কেন করাচ্ছেন না? এমন প্রশ্নবানেও বিদ্ধ করতে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতিকে।
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হতে দেখা যায়। তবে সবথেকে বেশি তার যে মন্তব্য নিয়ে জনমানসের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে, তা হলো, চপ, ঘুগনি বিক্রি করার মত কথা। বিভিন্ন সভা সমিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে শোনা গিয়েছে, বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে এই উপদেশ। তিনি বলেছেন যে, চপ, ঘুগনি বিক্রি করাটাও কোনো ছোট কাজ নয়, এই কাজ করেও প্রচুর টাকা উপার্জন হয়। আর একজন শিক্ষিত যুবকের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা যে কতটা তাকে বেদনাহত করেছে, তা একমাত্র তিনিই জানেন। ফলে একজন প্রশাসনিক প্রধানের মুখ থেকে এই ধরনের কথা শুনতে শুনতে এখন রীতিমত তিতিবিরক্ত রাজ্যবাসী। সকলেই এই সরকারের পরিবর্তন চাইছেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই সিঙ্গুরের সভা থেকে সোচ্চার হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন সিঙ্গুরের সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, আপনাদের হাজার টাকা করে দিই। হাজার টাকা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে ছোলা কিনে আনতে বলুন। ছোলা এনে ঘুগনি বানান। আর ঘুগনি বানিয়ে নাকি শিল্পপতি হয়ে যান। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে প্রশ্ন করতে চাই, যদি ঘুগনি বানিয়েই শিল্প হয়, তাহলে আপনার ভাইপো সেই শিল্প করে না কেন? আপনার বাড়ির লোক সেই শিল্প করে না কেন? কেন শুধুমাত্র সাধারন মানুষকে আপনি ঘুগনি বেচার কথা বলেন? তাই তৃণমূলের নেতারা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির নিচে বড় বড় করে লিখতেন, অগ্নিকন্যা। এখন আর লেখেন না। কি লিখবেন, বুঝতে পারেন না। আমি বলে দিচ্ছি। অগ্নিকন্যার জায়গায় এখন লিখুন ঘুগনি কন্যা। ভালো মানাবে। দিদিমণি, ভালো মানাবে। খুব সুন্দর মানাবে।”
