প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে যে বাজেট হয়েছে, সেই বাজেট নিয়ে আর কিছু বলার নেই। ভোটের দিকে তাকিয়ে সামান্য কিছু চমক দেওয়ার জন্যই যে এই রাজ্যের সরকার বাজেট করেছে, তা বুঝতে বাকি নেই সাধারন মানুষের। আর অর্থনীতিবিদ তথা বিজেপির বিধায়ক অশোক লাহিড়ি সেই বাজেটের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন বিধানসভায় বক্তব্য রাখলেন, তখন তাকে যে ভাষায় শাসক বেঞ্চের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হলো, যে সমস্ত শব্দ এই ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে করে বসলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, তাতে আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি বিজেপি বিধায়করা। অশোক লাহিড়ীর মত একজন উচ্চমানের অর্থনীতিবিদ তথা বালুরঘাটের বিধায়কের অপমান বরদাস্ত করতে না পেরে তড়িঘড়ি ওয়াকআউট করে বাইরে বেরিয়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা। রীতিমতো চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গেল তাদের।
ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই বাজেট নিয়ে বিশ্লেষণ হবে, এটা অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু এই সরকার কোনোরকম গঠনমূলক সমালোচনাকে বরদাস্ত করে না, এটাই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন বিধানসভার অধিবেশন থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করে রাখা হয়। গতকাল রাজ্য বিধানসভায় বলতে গিয়ে এই সরকারের বাজেটের সমালোচনা করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী। মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার সময় যে হামটি ডামটি শব্দ প্রয়োগ করেছিলেন, তাকে খোঁচা দেন তিনি। আর তারপরেই শাসক দলের পক্ষ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অশোক লাহিড়ী সম্পর্কে যে সমস্ত মন্তব্য করেন, তাতে রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়করা। একজন বর্ষিয়ান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্য শাসক বেঞ্চের পক্ষ থেকে আসার সাথে সাথেই বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হন।
গতকাল রাজ্য বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা। যেখানে তারা স্লোগান তোলেন, “অশোক লাহিড়ীর অপমান মানছি না, মানবো না।” পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্যা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও স্লোগান তুলতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়কদের। তারা বলেন, “মমতার দালাল চন্দ্রিমা হায় হায়।” স্বাভাবিক ভাবেই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা চত্বর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনীতিতে গঠনমূলক সমালোচনা থাকবে। কিন্তু কেউ এই সরকারের সমালোচনা করলেই যেভাবে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে, যেভাবে তাকে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করার একটা প্রতিযোগিতা চলছে শাসক দলের মধ্যে থেকেই, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আর সেই কারণেই অশোক লাহিড়ীর মত একজন সভ্য, ভদ্র মানুষ এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এই রাজ্যের বাজেটের বিরুদ্ধে বলার সাথে সাথেই যেভাবে তাকে আক্রমণ করা হলো, তা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত অশুভ লক্ষণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
