Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার দুয়ারে এবার হকের লড়াই! সুপ্রিম কোর্টকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রতিবাদে কালীঘাট কাঁপাতে আসছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে নিজের খাসতালুক কালীঘাটেই প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA)-র দাবিতে রাজ্যজুড়ে যে আন্দোলন চলছে, তা এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় ‘কালীঘাট অভিযান’-এর ডাক দিল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগের তির সরাসরি নবান্নের দিকে। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আইনি পথে লড়াইয়ে হেরে গিয়েও রাজ্য সরকার আদালতকে অবমাননা করছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিএ নিয়ে যে ‘সংশোধিত ঘোষণা’ করা হয়েছে, তাকে কার্যত ‘ভাওতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যৌথ মঞ্চের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে মেলা-খেলা-উৎসবে কোটি কোটি টাকা ওড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে তাঁদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকার মনে করছে সামান্য কয়েক শতাংশ বাড়িয়ে দিলেই আমরা শান্ত হয়ে যাব। কিন্তু লড়াইটা শুধু শতাংশের নয়, লড়াইটা সম্মানের এবং আইনের। সুপ্রিম কোর্টের ৫ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ রাজ্য সরকার মানেনি। আমরা মুখ্যসচিব ও অর্থ সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছি। এবার লড়াই হবে রাজপথে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালীঘাট অভিযান কেবল একটি মিছিল নয়, এটি বর্তমান শাসক দলের ‘অত্যাচারী’ মানসিকতার বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিবাদ। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র সঙ্গে রাজ্যের ফারাক এখনও প্রায় ৩৭ শতাংশ। এই বিশাল বৈষম্য ঘোচাতে রাজ্য সরকারের কোনো সদিচ্ছা নেই। উল্টে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারির অভিযানেও পুলিশি বাধা এসেছিল, কিন্তু এবার আর পিছু হটতে নারাজ কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা— “নবান্ন যদি আমাদের কথা না শোনে, তবে কালীঘাটের দোরগোড়ায় গিয়ে আমরা আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব।”

নির্বাচনের ঠিক ১১ দিন আগে সরকারি কর্মচারীদের এই রণংদেহি মেজাজ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড়সড় অশনি সংকেত। রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের ভোট এবার শাসক শিবিরের হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে যে, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় হারেই ডিএ দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এই কালীঘাট অভিযান বিরোধী শিবিরের পালে বাড়তি হাওয়া দিচ্ছে।

ইতিমধ্যেই এই অভিযান রুখতে প্রশাসন কোমর বেঁধে নামছে বলে খবর। কালীঘাট সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো জেল-জুলুম বা পুলিশি লাঠি তাঁদের হকের লড়াই থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।শহরের রাজপথ এখন টানটান উত্তেজনায় ফুটছে। ধর্মতলায় বিগত কয়েক বছরের অনশন ও অবস্থানের আগুন এবার কালীঘাটের শান্ত পরিবেশকে তপ্ত করে তুলবে কি না, সেটাই এখন দেখার। আগামী ১১ দিন পর কলকাতার বুকে এক ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা, যা সম্ভবত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

Exit mobile version