প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বঙ্গ রাজনীতিতে কি তবে বড় কোনো মহাপ্রলয় আসতে চলেছে? আজ শনিবার, ২১ মার্চ সকালে খাস কালীঘাটে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ঘিরে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের অলিন্দে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রটি আকর্ষণের কেন্দ্রে, আর সেখানেই আজ সাতসকালে শুভেন্দুর এই ‘মন্দির অভিযান’ এক নতুন এবং ভয়ংকর সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিন কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। নিষ্ঠাভরে মা কালীর পুজো দেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাহাত্ম্য কেবল আধ্যাত্মিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। যে ভবানীপুরকে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসকদলের ‘অভেদ্য দুর্গ’ বা ‘পারিবারিক জমিদারি’ বলে মনে করা হয়েছে, সেই গড়ের বুক চিরে আজ পরিবর্তনের হুঙ্কার দিতে চেয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজয়ী নায়ক। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মা কালীর আশীর্বাদ নিয়েই তিনি এবার ‘অশুভ শক্তি’ বিনাশের সংকল্প করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুভেন্দুর এই কালীঘাট সফর নিছকই কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। যেখানে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেন, সেখানেই আজ সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন—“ঠাকুরঘরেও এখন আর কেউ নিরাপদ নয়।” গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের অলিগলিতে প্রচার চালানোর সময় সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া শুভেন্দু পেয়েছেন, তা তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্নীতির পাহাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শাসকদল এখন নিজেদের গড় বাঁচাতে মরিয়া, আর শুভেন্দু ঠিক সেই মরণফাঁদেই পা দিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক বিস্ফোরক তথ্য। গুঞ্জন উঠেছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভবানীপুর এলাকায় বড়সড় কোনো রাজনৈতিক ধামাকা বা কোনো হেভিওয়েট নেতার পদ্ম-শিবিরে যোগদানের মত ঘটনা ঘটতে পারে। আজ মন্দিরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর যে আত্মবিশ্বাসী হাসি দেখা গেছে, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কম্পন শুরু হওয়া স্বাভাবিক। শুভেন্দু আগেই দাবি করেছিলেন যে, এবার ভবানীপুরে তিনি অন্তত ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতবেন। আজকের এই সফর কি সেই জয়েরই আগাম প্রস্তুতির ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
শুভেন্দুর এই সফরের পরেই গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “কালীঘাটের মা এবার আর চোরদের আশীর্বাদ করবেন না। পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে, তাই এবার খাস কালীঘাট থেকেই বিসর্জনের সুর বাজতে শুরু করেছে।” গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুর থানায় গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুভেন্দুর প্রশ্ন তোলা এবং আজ মন্দিরে পুজো দেওয়া—এই দুই ঘটনাকে মেলালে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, শুভেন্দু এবার সরাসরি ‘হেডকোয়ার্টারে’ আঘাত হানতে চলেছেন। এখন প্রশ্ন একটাই, শুভেন্দুর এই ‘রহস্যময়’ সফর কি সত্যিই কোনো বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণের আগের নিস্তব্ধতা? এর উত্তর মিলবে আগামী কয়েকদিনেই। তবে আজকের এই ঘটনায় যে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো এবং শাসকদলের রাতের ঘুম উড়ে গেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
