প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাংলাজুড়ে ‘মোদী ঝড়’! আজ শনিবার, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক মহাপ্রলয়ংকারী দিন হতে চলেছে। রাজ্যের তিন প্রান্ত— পূর্বস্থলী, জঙ্গিপুর এবং কুশমন্ডি আজ সাক্ষী থাকতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর সেই মেগা জনসভার, যা নবান্নের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আজকের ঝটিকা সফরের প্রথম গন্তব্য পূর্বস্থলী দক্ষিণ। সেখানকার সিমলন মোড়ে সকাল ১১:৩০ মিনিট নাগাদ যখন প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামবে, তখন থেকেই শুরু হবে আসল খেলা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব বর্ধমানের এই মাটি থেকেই তৃণমূলের দুর্গে প্রথম আঘাতটি হানবেন মোদী। দলীয় প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে আজ সিমলন মোড়ের সভা থেকে মোদী কী ‘ব্রেকিং’ বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। পদ্ম শিবিরের দাবি, আজকের এই সভা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে বর্ধমানের মাটিতে ঘাসফুলের দিন শেষ।
পূর্বস্থলী সেরেই মোদী উড়ে যাবেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। দুপুর ১:৪৫ মিনিটে সেখানে আয়োজিত জনসভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জনসমুদ্রের আকার নিয়েছে রাজপথ। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, জঙ্গিপুরের এই সভা স্রেফ নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং মুর্শিদাবাদে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের এক বিরাট মঞ্চ। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় মোদী আজ উন্নয়নের কোন তুরুপের তাস খেলেন, তা দেখতে উদগ্রীব সকলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে— জঙ্গিপুরে কি আজ কোনো বড়সড় রাজনৈতিক ধামাকা হতে চলেছে?
বিকেলের আলো যখন ম্লান হবে, ঠিক তখনই দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডিতে গর্জে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে কুশমন্ডির মাটি থেকে তিনি যখন হুঙ্কার দেবেন, তার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যাবে নবান্নের ১৪ তলা পর্যন্ত। উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, আর আজ কুশমন্ডি ও বালুরঘাট এলাকার প্রার্থীদের সমর্থনে মোদীর এই সভা বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করে দিয়েছে।
কেন এই সফর ‘টার্নিং পয়েন্ট’?একদিনের ব্যবধানে মোদীর এই ঘনঘন সফর কি স্রেফ প্রচার? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো গেমপ্ল্যান? বিজেপির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মোদী আজ এমন কিছু তথ্য বা দুর্নীতির প্রসঙ্গ সামনে আনতে পারেন, যা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলার রাজনীতিতে সুনামি নিয়ে আসবে। ১৪ জন প্রার্থীর সমর্থনে আজ মোদী যে জনজোয়ার তৈরি করতে চলেছেন, তা দেখে অনেকেই বলছেন— ‘২০২৬-এর রায় আজই লেখা হয়ে যাচ্ছে।’
আজকের রাত প্রধানমন্ত্রী কাটাবেন শিলিগুড়িতে। আর আগামীকাল সেখানে হতে চলেছে এক মেগা রোড-শো। অর্থাৎ, টানা ৪৮ ঘণ্টা বাংলা থাকছে মোদীময়। আজকের এই তিন সভার পর বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে আজকের দিনটি যে বাংলার রাজনীতির ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ হতে চলেছে বিরোধীদের জন্য, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
