Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার ইস্তেহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন! ১৯০৫-এর কোন ঘটনার উল্লেখ করলেন মোদী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কোচবিহারের সভা থেকে তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু প্রশ্ন তুললেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় এবার শুধুই তৃণমূলের নীতি নয়, বরং তাদের ব্যবহৃত ‘শব্দ’ এবং তার আড়ালে থাকা এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

বক্তব্যের শুরুতেই মোদী সরাসরি আক্রমণ শানান তৃণমূলের ‘ইস্তেহার’ (Ishtehar) শব্দটির ওপর। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “মমতা দিদি নিজেকে বাংলার মেয়ে বলেন, তাঁর দল মা-মাটি-মানুষের কথা বলে। তাহলে কেন তাদের নির্বাচনী সংকল্পের নাম বাংলা ভাষায় রাখা হলো না? কেন ‘ইস্তেহার’ শব্দটির ওপর তাঁদের এত টান?” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার নিজস্ব শব্দভাণ্ডারকে সরিয়ে রেখে এক বিশেষ ঘরানার শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আদতে বাংলার সংস্কৃতি বদলানোর এক সূক্ষ্ম চেষ্টা।

বক্তব্যের সবথেকে আলোচিত অংশটি ছিল ১৯০৫ সালের এক বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ। প্রধানমন্ত্রী কোচবিহারের জনসভা থেকে দাবি করেন, সেই সময় এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে জারি করা হয়েছিল ‘লাল ইস্তেহার’। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ইস্তেহারের জেরে তৎকালীন বাংলায় এক অস্থির ও দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মোদী আজ প্রশ্ন তুলেছেন, “আজ আবার কেন সেই ‘ইস্তেহার’ শব্দকেই বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?” প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক তুলনা তৃণমূলের তোষণ রাজনীতিকেই কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মোদী অভিযোগ করেছেন, একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সন্তুষ্ট করতেই তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরণের শব্দ চয়ন করেছে। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের শাসন বাংলার ঐতিহ্যকে সংকটে ফেলেছে।

নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ঐতিহাসিক’ বয়ান তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইস্তেহার’ শব্দটির সঙ্গে পুরনো ইতিহাসের যোগসূত্র স্থাপন করে মোদী সরাসরি রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহ তৈরি করেছেন। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি আক্রমণের পাল্টা জবাব তৃণমূলের পক্ষ থেকে কীভাবে আসে।

Exit mobile version