প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ যত এগোচ্ছে, ততই চড়ছে উত্তেজনার পারদ। আজ উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখার এক হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি আওড়ালেন নিউটনের তৃতীয় সূত্র— “এভরি অ্যাকশন হ্যাজ় ইটস রিঅ্যাকশন” (প্রতিটি ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে)। কিন্তু কেন এই অসময়ে এই হুঁশিয়ারি? তবে কি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলায় বড় কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার অশনিসঙ্কেত দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী? হঠাৎ কেন নিউটনের সূত্র?
মিনাখার সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বেনজির আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, “৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছ, মনে রেখো তাতেও আমরা জিতব। পুরো গণতন্ত্রকে চৈত্রমাসের সেলের মতো বিক্রি করে দিয়েছ।” এরপরই তিনি সেই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি দেন— “এভরি অ্যাকশন হ্যাজ় ইটস রিঅ্যাকশন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০২৬-এর এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে তৃণমূল যখন কোণঠাসা, তখন দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই এই ‘প্রতিক্রিয়া’র তত্ত্ব খাড়া করছেন নেত্রী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ‘রিঅ্যাকশন’ বা প্রতিক্রিয়া ঠিক কী হতে পারে? ভোট পরবর্তী কোনো অশান্তির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত কি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে? নাকি পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তিনি আগেভাগে মাঠ গরম করছেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘৯০ লক্ষ নাম বাদ’ যাওয়ার অভিযোগকে স্রেফ ‘হতাশা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ যাওয়া মানেই তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ‘বৈজ্ঞানিক রিগিং’-এর পথ বন্ধ হওয়া। আর সেই ভয়েই এখন গণতন্ত্রকে ‘চৈত্রমাসের সেল’-এর সাথে তুলনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। গেরুয়া শিবিরের প্রশ্ন, বাংলার মানুষ যখন ২০২৬-এ পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোট দিতে প্রস্তুত, তখন কেন একজন প্রশাসনিক প্রধানকে বারবার ‘প্রতিক্রিয়া’র হুমকি দিতে হচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ— দেশের গণতন্ত্র আজ চৈত্রমাসের সেলের মতো বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের পাল্টা তোপ, যে রাজ্যে বিগত নির্বাচনগুলোতে বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন পর্যন্ত জমা দিতে পারেন না, সেই রাজ্যে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের বিপন্নতার কথা বলা হাস্যকর। আদতে ২০২৬-এর তখত হারানোর ভয় থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে আঙুল তুলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার শেষ চেষ্টা করছেন।ফলাফলের পর কী হবে?
রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, যদি ২০২৬-এর সমীকরণ বদলে যায় এবং বাংলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিবর্তন আসে, তবে কি ফের এক অশান্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে রাজ্য? মিনাখার সভা থেকে মমতার এই মেজাজ আদতে একটি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে এখন তীব্র চর্চা চলছে দিল্লির অলিন্দেও। বাংলার ভোটের ইতিহাসে এই ধরনের ভাষা নতুন নয়, কিন্তু খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে বিজ্ঞানের সূত্র টেনে এমন প্রচ্ছন্ন হুমকি কি শেষমেশ বুমেরাং হয়ে ফিরবে? উত্তর দেবে ২০২৬-এর ইভিএম। তবে মমতার আজকের এই বক্তৃতার পর বাংলার রাজনীতির জল যে বহুদূর গড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
