Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ফাটল নয়! শপথের পরেই নবান্ন কাঁপানো নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে নবান্নে নিজের কাজের রাশ ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই তিনি যা করলেন, তাতে কার্যত চমকে গিয়েছে রাজনৈতিক মহল। সোমবার নবান্নে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস বা খামতি বরদাস্ত করা হবে না।

ভোটের ময়দানে লড়াই ছিল সেয়ানে-সেয়ানে। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। সোমবারের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান। তাই তাঁর প্রোটোকল এবং জেড প্লাস (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বজায় রাখা পুলিশের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এই নিরাপত্তায় যাতে বিন্দুমাত্র ‘ফাটল’ না দেখা দেয়, তার জন্য পুলিশকে সতর্ক করেছেন তিনি।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকবে, কিন্তু প্রশাসনিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করা চলবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই যান বা থাকুন, তাঁর সুরক্ষাবলয় যেন নিশ্ছিদ্র থাকে।” কোনো রকম রাজনৈতিক উত্তেজনার আঁচ যাতে তাঁর নিরাপত্তায় না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই সৌজন্যের বার্তার পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, রাজ্যে যে কোনও ধরণের রাজনৈতিক হিংসা রুখতে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আমলাতন্ত্রে স্বচ্ছতা আনতে এবং সাধারণ মানুষের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ নজরদারি সেল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘নবান্ন কাঁপানো’ নির্দেশ আসলে এক গভীর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন উগ্র রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে নিজেকে একজন দক্ষ ও স্থিতধী প্রশাসক হিসেবে তুলে ধরলেন, তেমনি পুলিশ প্রশাসনকেও বার্তা দিলেন যে নতুন সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী।

Exit mobile version