Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার সাধের ‘বাহিনী’র ডানা ছাঁটলো কমিশন! ভোটের আগে নজিরবিহীন নির্দেশ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বাংলার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে কোনো প্রকার ‘ছায়া’ যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে এবার রাজ্য সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশ বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত কোপ বসাল কমিশন। বুধবার কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক কড়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের কোনো স্তরেই এই বাহিনীকে ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া যাবে না।

রাজ্য পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করা এই বিশাল বাহিনীকে নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই বিতর্কের শেষ ছিল না। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এই বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করেই কমিশন একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করেছে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতর নিরাপত্তা তো দূরের কথা, বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন সামলানোর মতো অতি সাধারণ কাজেও কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি কিউ-ম্যানেজমেন্টের মতো কাজেও তাঁদের নিয়োগ করা চলবে না। নির্দেশের সবথেকে চমকপ্রদ অংশ হলো পোশাক বিধি। ভোটের ৩ দিন আগে থেকে শুরু করে ভোটের ১ দিন পর পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা ৫ দিন কোনো সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম বা সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। এই ৫ দিন তাঁদের পরিচয় কেবলই ‘সাধারণ নাগরিক’ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই সময়কালে তাঁদের শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা থানার অন্দরে সাধারণ করণিক কাজের মতো রুটিন ডিউটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোনোভাবেই তাঁদের কোনো বুথ বা স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা যাবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য পুলিশের ওপর যে কেন্দ্রীয় কমিশনের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, এই নির্দেশ তারই চরম বহিঃপ্রকাশ। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং বুথ দখলের মতো কাজে মদত দেওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের দপ্তরে। বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে বিজেপি নেতৃত্ব বারবার দাবি তুলেছিলেন যে, এই বাহিনীকে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়। সেই দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে যেন শেষ হাসি হাসল বিরোধী শিবিরই।

রাজ্যের নিজস্ব পুলিশ কাঠামোর বাইরে এই সমান্তরাল বাহিনীকে নিয়ে মমতার সরকার যখন গর্বিত, তখন কমিশনের এই ‘সার্ভিক্যাল অপারেশন’ নবান্নের জন্য বড়সড় ধাক্কা। ভোটের দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই বিশাল সিভিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার যে পরিকল্পনা রাজ্য পুলিশের ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। বিজেপি শিবিরের দাবি, “কমিশন যোগ্য জবাব দিয়েছে। যারা খাকি পোশাকের আড়ালে শাসকদলের দালালি করতে অভ্যস্ত ছিল, তাদের এবার ডানা ছাঁটা হলো।” অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভোট প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে রাখলে জনমনে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে, কমিশনের এই একটি কলমের খোঁচায় রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন কতটা তৎপর হয়।

Exit mobile version