প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বা ব্যানার টাঙ্গাতেন, তখনই তারা তার নীচে লিখে দিতো, “সততার প্রতীক।” কিন্তু কালের নিয়মে এখন সেই শব্দ বন্ধনী আর দেখতে পাওয়া যায় না। কারণ রাজ্যের মানুষও খুব ভালো মত জানে যে, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এত দুর্নীতি করেছে যে, সততার প্রতীক যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের নীচে লেখা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সেটা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতে পারে। তাই এখন আর সেই সমস্ত লেখা দেখতে পাওয়া যায় না। কটাক্ষ করে তেমনটাই বলে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মানুষ দেখেছেন যে, এই রাজ্যের কত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা দুর্নীতি করে জেলে গিয়েছেন। এমন অনেক বিধায়ক রয়েছেন, যারা জেল খেটেছেন। এখনও অনেকে জেলের মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, তাদের দল দুর্নীতিকে বরদাস্ত করে না, তারা যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে যে, তাহলে কি অমিত শাহের এই চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করতে পারবেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান?
এই রাজ্যে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতির কারণে প্রচুর নেতা, মন্ত্রীর জেল যাত্রা হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ববি হাকিম থেকে শুরু করে জীবনকৃষ্ণ সাহা, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কত নাম নেওয়া যাবে! কিন্তু নামের তালিকা শেষ হবে না। ফলে তৃণমূল সরকারের নেত্রী, যিনি সততার প্রতীক বলে প্রচার করা হয়েছিল, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তার দলের এত গুরুত্বপূর্ণ নেতা-মন্ত্রীরা দুর্নীতি করে জেলে যাবে, এটা কেউ কল্পনা করতে পারেনি। আর পশ্চিমবঙ্গে যত সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তার থেকে বেশি সবথেকে বেশি দুর্নীতির জালে বিদ্ধ হয়েছে এই তৃণমূল সরকার বলেই দাবি করে বিরোধীরা। সামনেই ২৬ এর নির্বাচন। বিজেপি এবার ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর আজ ব্যারাকপুরের দলীয় সভা থেকে এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, মন্ত্রীদের নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এদিন ব্যারাকপুরের কর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেখানেই যারা এতদিন দুর্নীতি করে জেলে গিয়েছে যদি এতই সততার বার্তা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাহলে যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের একজন কেউ এবারের নির্বাচনে টিকিট দেবেন না বলে চ্যালেঞ্জ করলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘সব সীমা অতিক্রম করেছে দুর্নীতি। এখানকার মানুষ সিন্ডিকেট নিয়ে বিরক্ত। গুণ্ডাদের হাতে যায় টাকা। এই সরকার কি চলা উচিত? পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ সিংহ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অনুব্রত মণ্ডল, সকলে জেলে গিয়েছেন। আমাদের সরকার গড়তে দিন, বাকিদেরও ভরে দেব। মমতাজি, সাহস থাকলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইলে এদের টিকিট দেবেন না। তবে এদের টিকিট না দিলে এরা ভাইপোর নাম বলে দেবে।’’
