Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ: ২১ জুলাইয়ের আগে মহাবিস্ফোরণ! দিল্লির রাজঘাট থেকে মমতার ‘শহিদ ফাইল’ ফাঁসের হুমকি কাকলির, কাঠগড়ায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বাদল অধিবেশনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও ওলটপালট করা ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেসের কোমর ভেঙে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদের নতুন দল ন্যাশলালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল কালীঘাট শিবিরকে। আগামী ২১ জুলাই কলকাতার পাশাপাশি এবার সমান্তরাল ‘শহিদ দিবস’ পালিত হতে চলেছে খোদ দেশের রাজধানী দিল্লির রাজঘাটে। আর সেখান থেকেই ১৯৯৩ সালের ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুরহস্যের ‘আসল সত্যি’ ও ‘ধামাচাপা দেওয়া ফাইল’ জনসমক্ষে আনার হুঁশিয়ারি দিলেন লোকসভায় এনসিপিআই-এর নবনিযুক্ত মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

আজ, ১৯ জুলাই রবিবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সর্বদলীয় বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের দিন নিরস্ত্র যুবকদের বুকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত। অথচ, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সেই মণীশ গুপ্তকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী বানিয়েছিলেন? কার স্বার্থে বাম আমলের সেই আমলাকে আড়াল করা হলো?” কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার এবং এই ঘটনার নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।

এনসিপিআই শিবিরের অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল নেতৃত্ব বামেদের একাংশের সঙ্গে গোপন আঁতাত বা ‘কোলাবোরেশন’ করে ২১ জুলাইয়ের আসল তদন্ত ফাইল গায়েব করে দিয়েছিল।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই আক্রমণের তীব্রতা আঁচ করতে পেরেই গত পরশুই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন মণীশ গুপ্ত। শুধু পদত্যাগই নয়, তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন, যা বাংলায় নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও সাংসদ দল ছাড়ায় এবং মণীশ গুপ্তর এই আকস্মিক ইস্তফায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে কালীঘাট শিবির।

আগামীকাল, ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার ঠিক একদিন পরেই, ২১ জুলাই দিল্লির রাজঘাটে মহাধুমধামে শহিদ স্মরণ সভা আয়োজন করছে NCPI। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ইতিমধ্যেই বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকে লোকসভায় আলাদা বসার আসন মঞ্জুর করেছেন। ফলে, একসময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সেনাপতি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই নতুন চাল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শহিদ দিবসের আবেগকে বড়সড় ধাক্কা দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ২১ জুলাই কেবল কলকাতার ধর্মতলায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দিল্লির বুক থেকে ‘তদন্ত ধামাচাপা’ দেওয়ার যে গুরুতর অভিযোগ কাকলিরা তুলছেন, তা আগামী দিনে বাংলার ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

Exit mobile version