Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার সমর্থনের ঠিক ১ ঘণ্টার মাথায় খেলা ঘুরে গেল নন্দীগ্রামে! পুলিশের খাঁচায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা প্রার্থী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগে এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের সময়কার একটি পুরনো খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই গ্রেফতারির ঠিক এক ঘণ্টা আগেই তৃণমূলের (মমতা গোষ্ঠী) সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক থেকে নন্দীগ্রামে এই কংগ্রেস প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

শুক্রবার দুপুরে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আকস্মিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি নবান্নে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। নিজেদের প্রার্থী আসর থেকে সরে দাঁড়ানোয় নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের কোনো প্রার্থী রইল না। এর পরপরই তড়িঘড়ি কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে “ভগিনী দল” আখ্যা দেন এবং ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে শক্তিশালী করতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার ঠিক এক ঘণ্টার মাথায় পুলিশ চণ্ডীপুরের হোটেলে হানা দিয়ে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে। তাঁকে গ্রেফতারের সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুভাশিষ ভট্টাচার্য নামে আরও এক স্থানীয় কংগ্রেস নেতাকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

আগামী শনিবারই (১৯ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার ঠিক আগের রাতে প্রার্থীর এই নাটকীয় গ্রেফতারি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কংগ্রেস শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে একে বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “ভোটের আগেই রাজ্যে বিরোধী রাজনীতি শেষ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে বিজেপি।” অন্যদিকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন দিতেই পারেন, তবে কংগ্রেস তাঁর কাছে কোনো সমর্থন চায়নি।” বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো খাসতালুক নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণের মাত্র ১৬ দিন আগে বিরোধী প্রার্থীর এই গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে যে এক ধাক্কায় চরম সীমায় পৌঁছে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version