Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দল ছাড়তেই ক্ষমতার কোপে? চাকরি-চুরির অভিযোগে এবার আইনি বিপাকে সদ্য প্রাক্তন তৃণমূলী মানস ভুঁইয়া!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হারাতেই কি তৃণমূল নেতাদের পুরনো পাপের ঘড়া একে একে উল্টাতে শুরু করেছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবংয়ের রাজনৈতিক অলিন্দে। দল ছাড়ার পরেই রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী তথা সদ্য তৃণমূলত্যাগী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সবং থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর যখন একে একে পুরনো দুর্নীতির ফাইল খুলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা সবংয়ের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সুশাসনের জমানায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ এখন সাহস পাচ্ছেন এবং দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন।

সবংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ পুরকাইতের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, তাঁর স্ত্রীকে সেচ দফতরে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিরাট জাল বুনেছিলেন মানস ভুঁইয়া এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও দুই নেতা। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, পাকা সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা হাতানো হয়েছিল। দুর্নীতির গভীরতা বোঝাতে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, যুবতীকে বিভ্রান্ত করতে এক মাসের জন্য একটি অস্থায়ী কাজেও বসানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক রদবদলের পর তাঁকে আর কাজে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত মেলেনি।

এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে যে চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ভেতরে তীব্র কোন্দল ও ভাঙন শুরু হয়েছে। চারিদিকে দলের এই বিপর্যয় দেখে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন মানস ভুঁইয়া। আর তাতেই ক্ষুব্ধ দলের বাকি অংশ! স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এতদিন যখন এই নেতারা কোটি কোটি টাকা লুঠ করে ক্ষমতার অলিন্দে ছিলেন, তখন সব ধামাচাপা ছিল। যেই মুহূর্তে দল ক্ষমতা হারিয়েছে এবং মানস বাবু নিজে দল ছেড়েছেন, অমনি তাঁর পুরনো সমস্ত কীর্তি সামনে আসতে শুরু করেছে। মানস ভুঁইয়া এই পুলিশি তৎপরতাকে “ভয়ংকর চক্রান্ত ও প্রতিশোধস্পৃহা” বলে দাবি করলেও, সাধারণ মানুষ মনে করছেন যে— তৃণমূলের নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতির যে জাল বিস্তৃত ছিল, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।

এই ঘটনা সামনে আসতেই সবং জুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের মতোই মানস ভুঁইয়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে— তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি কীভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছিল। এতদিন ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে না পারলেও, রাজ্যে নতুন জমানায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠছে।জনগণের এখন একটাই দাবি— পুলিশ যেন কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে না পড়ে এই গুরুতর প্রতারণা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে এবং প্রতারিত যুবকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে।

Exit mobile version