Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৩৩ বছর পর বিস্ফোরক মোড়! শহিদ মিনারে তৈরি প্রতীকী কাঠগড়ায় বন্দি মণীশ গুপ্ত? ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের মহাকরণ অভিযানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক ক্ষত ৩৩ বছর পর ফের একবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলো। এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু রাজনৈতিক তরজাই নয়, বরং শহিদ মিনারের সভাস্থলে এক বেনজির প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী।

প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সমাবেশে এক অভিনব প্রতীকী আদালত বা কাঠগড়া তৈরি করা হয়। চমকপ্রদ বিষয় হলো, সেই প্রতীকী কাঠগড়ার ভেতরে বসানো হয়েছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের ছবি। কংগ্রেস নেতৃত্বের সরাসরি অভিযোগ, ১৯৯৩ সালের সেদিনের সেই যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলি চালানোর নেপথ্যে মূল প্রশাসনিক নির্দেশদাতা ছিলেন এই মণীশ গুপ্তই, যার ফলে ১৩ জন নিরীহ যুব কংগ্রেস কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন।

শুধু মণীশ গুপ্তই নন, এই প্রতিবাদী মঞ্চে স্থান পেয়েছে তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের সময়ের ছবিও। কংগ্রেস নেতৃত্ব এই প্রতীকী কাঠগড়ার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের অতীত নীতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রশ্ন, যাঁর নির্দেশে যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী শহিদ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ, ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সেই মণীশ গুপ্তকেই কেন দলে টেনে মন্ত্রী, বিধায়ক এবং সাংসদ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল? কেন ক্ষমতাসীনা থাকার দীর্ঘ এক দশকেও তৃণমূল সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি?

এই প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট আরও জোরালো হয়েছে সম্প্রতি মণীশ গুপ্তের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর। তিনি দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসাও করেছেন।

এদিকে গতকালই বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশন রিপোর্ট পেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মণীশ গুপ্ত তৃণমূল ছাড়ার পরপরই কংগ্রেসের এই ‘প্রতীকী কাঠগড়া’র আন্দোলন এবং বিধানসভায় সরকারি রিপোর্ট পেশ হওয়া— সব মিলিয়ে ২১ জুলাইয়ের ইতিহাস এক সম্পূর্ণ নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।

Exit mobile version