প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বাংলার রাজনীতি তথা ভারতবর্ষের রাজনীতিতে তাকে বলা হতো চাণক্য। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলেও এবং রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও চর্চা থেকে কোনো কালেই দূরে থাকেননি মুকুল রায়। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে ছিলেন। তারপর মাঝে বিজেপিতে চলে গেলেও আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন তিনি। তারপর তার বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন সকলে দলের ঘর গোছাতে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই সকলকে ছেড়ে বিদায় নিলেন মুকুল রায়। তবে যেহেতু শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়কার সর্বক্ষণের সঙ্গী এই মুকুল রায়ের প্রয়াণে স্বাভাবিক ভাবেই গোটা তৃণমূল পরিবার অত্যন্ত শোকাহত। কিন্তু যে মুকুল রায় তৃণমূলের জন্য সবটা দিয়ে এসেছেন, তার মৃত্যুর খবরে কতটা ক্ষতি হলো তৃণমূল কংগ্রেসের? এই চর্চা যখন চলছে, তখন রাজনীতির নাগপাশকে সরিয়ে পিতার প্রয়াণে যে তিনি ভেঙে পড়েছেন, সেই কথাই ব্যক্ত করলেন শুভ্রাংশু রায়।
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া সঙ্গী বলা হত তাকে। পরবর্তীতে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিলো যথেষ্ট। প্রত্যেকটি ভোটে রণকৌশল তৈরি করার কারিগর ছিলেন এই মুকুলবাবু। তবে মাঝে ছন্দপতন ঘটে। তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তার। ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যুক্ত হলেও আবার ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করে তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শেষ দিন পর্যন্ত তাকে নিয়ে চর্চা ছিলো বঙ্গ রাজনীতিতে। গতকাল রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিধানসভা ভোটের আগে মুকুল রায়ের এই প্রয়াণ কতটা প্রভাব ফেলবে তৃণমূলের অন্দরমহলে? কারণ তৃণমূল যখনই অতীতে বিপদে পড়েছে, তখনই ভোট বৈতরনী পার করার দায়িত্ব পড়েছে মুকুল রায়ের। বিজেপিতে যাওয়ার আগে তিনিই তৃণমূলের বড় ভোট স্ট্র্যাটেজি হয়ে উঠেছিলেন। আর সেই ব্যাপারে পিতার মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দল এবং রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা তুলে ধরলেন পুত্র শুভ্রংশু রায়।
গতকাল রাতে প্রয়াত হন মুকুল রায়। আর আজ সকালে কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুত্র শুভ্রাংশু রায় বলেন, “প্রায় ৬০০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দলের কতটা ক্ষতি হলো জানি না। তবে আমার মাথার ওপর থেকে ছাদ চলে গেল।” কিছুদিন আগেই মুকুল রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তার শারীরিক অসুস্থতার কথা ব্যক্ত করে তার কষ্ট যে তিনি দেখতে পারছেন না, সেই বিষয়টি তুলে ধরেন পুত্র শুভ্রাংশু রায়। আর গতকাল রাতে সেই মুকুল রায়ের চলে যাওয়ায় পিতা হারানোর যে যন্ত্রনা তাকে গ্রাস করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
