প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সবথেকে বেশি মতুয়াদের মধ্যে ভুল বোঝাতে শুরু করেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে তারা মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে বলতে শুরু করেছে যে, বিজেপি পরিকল্পিত মাফিক তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যার ফলে অনেক মতুয়া সমাজের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সেই বিভ্রান্তি আজ মালদহের মাটি থেকে সম্পূর্ণরূপে দূর করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এতদিন বঙ্গ বিজেপির অনেক নেতৃত্ব আশ্বাস দিলেও মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা ছিলো। তবে এবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মতুয়াদের মধ্যে থাকা সেই ধোঁয়াশা যেমন কেটে যাবে, ঠিক তেমনই তৃণমূল যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো, তাতেও জল পড়ে যাবে বলেই মনে করছেন একাংশ।
সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মত করে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রচার করার চেষ্টা করছে। বিজেপির এবার টার্গেট, বঙ্গ জয়। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তবে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে বিজেপি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে যে, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। যার ফলে অনেক মতুয়া সমাজ বিজেপির প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে আজ পরিবর্তন সংকল্প সভা থেকে মতুয়াদের মন জয় করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, যারা হিংসার কারণে বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছেন, তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।
এদিন মালদহের পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “মোদীর গ্যারান্টি, মতুয়া যারা প্রতিবেশী দেশে ধর্মের কারণে হিংসার শিকার হয়ে এখানে এসেছেন, তারা ভয় পাবেন না। মোদী সিএএর মাধ্যমে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে। এখানে যে বিজেপির সরকার হবে, তারা মতুয়া, নমঃশূদ্র, শরণার্থীদের বিকাশের কাজে গতি আনবে।” অর্থাৎ এতদিন তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে মতুয়াদের মধ্যে প্রচার করার চেষ্টা করলেও, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের মুখ থেকে সেই মতুয়াদের গ্যারান্টি দিলেন, তখন তাদের মধ্যে যেমন বিভ্রান্তি কেটে যাবে, ঠিক তেমনই আগামী দিনে তৃণমূলের এই প্রচারের বিরুদ্ধে তারা সংঘবদ্ধভাবে বিজেপিকেই সমর্থন করবেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
