Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মেদিনীপুরে শাহের প্রণাম! ২৩ এপ্রিলের আগে কি বড় কোনো সংকেত দিলেন চাণক্য?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের মুখে ফের একবার বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য চাল দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় যখন তিনি সভা শুরু করলেন, তখন সভাস্থলে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শাহের প্রথম বাক্যেই কেঁপে উঠল মেদিনীপুরের মাটি। বিদ্যাসাগরের মূর্তিকাণ্ড নিয়ে বিগত দিনে যে রাজনীতির জলঘোলা হয়েছিল, আজ যেন ডেবরা থেকে তারই মোক্ষম জবাব দিলেন শাহ।

সভা শুরু করেই অমিত শাহ বলেন, “বিদ্যাসাগরের ভূমিতে প্রণাম করে সভা শুরু করলাম।” এই একটি বাক্যেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বিজেপির কাছে কতটা শ্রদ্ধার। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল দীর্ঘকাল ধরে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ বা ‘বাংলা সংস্কৃতি বিরোধী’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু শাহ সরাসরি বিদ্যাসাগরকে প্রণাম জানিয়ে সেই তত্ত্বকে ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেদিনীপুরের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বিদ্যাসাগরকে সম্মান জানানো আসলে তৃণমূলের ‘বাঙালি আবেগ’ কার্ডকে নিষ্ক্রিয় করার এক সুপরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক।

শাহের বক্তৃতায় স্পষ্ট ছিল জয়ের সংকল্প। তিনি বলেন, “আমরা সকলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের জন্য একজোট হয়েছি। ২৩ এপ্রিল সকলকে পদ্ম চিহ্নে ভোট দিতে হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহের এই ‘একজোট’ হওয়ার আহ্বান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরের কোনো ছোটখাটো মতভেদ থাকলেও, এই বার্তা দিয়ে তিনি কর্মীদের বুঝিয়ে দিলেন যে এখন লক্ষ্য একটাই— পদ্ম ফোটানো। ২৩ এপ্রিলের ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর শরীরী ভাষাই বুঝিয়ে দিচ্ছিল। মেদিনীপুরের এই মাটি থেকেই তিনি তৃণমূলের দুর্গে বড়সড় ফাটল ধরার ইঙ্গিত দিলেন।

তৃণমূল যখন বারবার ‘বাংলার মণীষী’ বনাম ‘দিল্লির নেতা’ লড়াইয়ের আবহ তৈরি করছে, তখন শাহ নিজেকে বিদ্যাসাগরের উত্তরসূরিদের সেবক হিসেবে তুলে ধরলেন। তিনি প্রমাণ করতে চাইলেন যে, বাংলার উন্নয়ন এবং সম্মান রক্ষায় বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। আজকের সভায় শাহের প্রতিটি শব্দ যেন মেপে মেপে চয়ন করা ছিল। কোনো উস্কানিমূলক কথা না বলেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আগামী ২৩ এপ্রিল বুথে বুথে কী ঘটতে চলেছে।

আজকের এই সভা শেষে রাজনৈতিক অন্দরে একটাই গুঞ্জন— অমিত শাহের এই ‘প্রণাম রাজনীতি’ কি মেদিনীপুরের ভোট সমীকরণ বদলে দেবে? ২৩ এপ্রিল কি সত্যিই মানুষ ‘পদ্ম’ চিহ্নে ভোট দিয়ে নতুন বাংলার পথ প্রশস্ত করবেন? শাহের আজকের রণহুঙ্কার অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। এখন দেখার বিষয়, শাসক দল তৃণমূল এই ‘সাংস্কৃতিক আক্রমণ’-এর পাল্টা কী জবাব দেয়।

Exit mobile version