প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তীব্র পেটের যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে কলকাতার আলিপুরের Woodlands Multispeciality Hospital Ltd-এ ভর্তি হলেন রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মীরা ভট্টাচার্যের অসুস্থতার খবর পেয়েই রাজনৈতিক সৌজন্যের নজরকাড়া ঐতিহ্য বজায় রেখে হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন, চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর নেন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৭৬ বছর বয়সি মীরা ভট্টাচার্যের চিকিৎসার জন্য একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে রয়েছেন: অধ্যাপক সরোজ মণ্ডল (বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ), ডাঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় (গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট), ডাঃ সেমন্তী চক্রবর্তী (এন্ডোক্রিনোলজিস্ট)। হাসপাতালের সর্বশেষ মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, ভর্তির পর মীরাদেবীর বেশ কিছু জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর পেটের সিটি স্ক্যান এবং শনিবার সকালে কোলোনোস্কপি করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, তাঁর বৃহদন্ত্রের (Large Intestine) ভেতরের দেওয়ালে একটি অংশে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন (Localised Inflammation) এবং কিছুটা পুরু আস্তরণ রয়েছে। ইকোকার্ডিওগ্রাফি (Echo) পরীক্ষায় তাঁর হৃদযন্ত্রের পাম্পিং ক্ষমতা কিছুটা কম পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য, তাঁর শরীরে আগে থেকেই পেসমেকার বসানো রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পর বর্তমানে মীরা ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পেটের তীব্র যন্ত্রণা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। মায়ের সাথে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক উপস্থিত রয়েছেন তাঁর সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য।
