প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মেসিকাণ্ডে এবার আইনি জালে পুরোপুরি আষ্টেপৃষ্টে জড়াতে চলেছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রথম ও দ্বিতীয় নোটিসে নানা টালবাহানা আর ‘অসুস্থতার’ অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা এড়ানোর পর, এবার তাঁর সেই কৌশল ভেস্তে দিতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল বিধাননগর দক্ষিণ থানা। আজই প্রাক্তন মন্ত্রীকে চূড়ান্ত তথা তৃতীয় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এবার আর কোনও লুকোচুরি নয়, সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে।
প্রথম নোটিসে শারীরিক অসুস্থতার গালভরা দোহাই দিলেও তদন্তকারীদের কাছে কোনও বিশ্বাসযোগ্য মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি অরূপ বিশ্বাস। দ্বিতীয় নোটিসটিকেও কার্যত হেলায় উড়িয়ে দেওয়ার পর, এবার নিউ আলিপুর থানার মাধ্যমে সরাসরি তাঁর বাড়িতে এই কড়া নোটিস ধেয়ে গেছে। আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার আশায় কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশ ডাকলে অরূপ বিশ্বাসকে নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতেই হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও রকম স্থগিতাদেশ দেওয়া সম্ভব নয়।আদালত আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির ওপর শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিলেও, তাঁর ডানা পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা হয়েছে। নিজের পাসপোর্ট জমা রাখতে হয়েছে তদন্তকারীদের কাছে এবং আদালতের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশের অনুমতি ছাড়া তিনি এলাকা ছেড়েই নড়তে পারবেন না।
যুবভারতীতে বিশ্বফুটবলের মহানায়ক লিওনেল মেসির রাজকীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে চরম কেলেঙ্কারি ও তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল, তা গোটা বাংলার ক্রীড়ামোদীদের লজ্জিত করেছিল। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনুষ্ঠান বন্ধের হুমকি দিয়ে প্রায় ২২,০০০ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট জোরপূর্বক হাতিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষ চড়া দামে টিকিট কিনেও যখন বাইরে লাঠিপেটা খাচ্ছিল, তখন সেই লুঠ করা কমপ্লিমেন্টারি টিকিট কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মুনাফা লোটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।প্রতারণা, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ও গুরুতর ধারায় মামলার মুখোমুখি প্রাক্তন এই হেভিওয়েট নেতা। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট হারিয়ে এখন পুলিশের ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী কী চাল চালেন, সেটাই এখন দেখার।
