Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মেসি-কাণ্ডে এবার তদন্তের স্ক্যানারে দাপুটে দাদা! অরূপের বন্ধ গেটে জোড়া নোটিস পুলিশের, আজই কি বড় মোড়?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যুবভারতীতে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসিকে আনার নাম করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও টিকিট জালিয়াতির যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, তার তদন্তের আঁচ এবার এসে লাগল খোদ প্রাক্তন মন্ত্রীর ড্রয়িংরুমে! রবিবার নিউ আলিপুরের সুরেশ সরকার রোডের সেই চেনা বাড়ির সামনে দেখা গেল ভারী বুটের আওয়াজ। বিধাননগর দক্ষিণ থানা এবং নিউ আলিপুর থানার পুলিশবাহিনী যৌথভাবে সেখানে পৌঁছায়। লক্ষ্য? তদন্তের প্রয়োজনে প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মুখোমুখি হওয়া। কিন্তু পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানে গিয়ে বারবার কলিং বেল বাজানো হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি, সদর দরজা খোলাই হয়নি। অগত্যা, আইনি নিয়ম মেনেই প্রাক্তন মন্ত্রীর বন্ধ দরজাতেই সপাটে সেঁটে দেওয়া হলো পুলিশের জোড়া নোটিস!

তদন্তকারী আধিকারিকরা যে এই মামলায় কোনো ফাঁক রাখতে রাজি নন, তা নোটিসের ভাষা থেকেই পরিষ্কার। গত ৪ জুন যখন বিধাননগর দক্ষিণ থানার মামলায় প্রথমবার অরূপ বিশ্বাসের ডাক পড়েছিল, তখন তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়াতে কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ এবার ওঁর সেই দাবির সপক্ষেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে। এদিনের নোটিসে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানতে চাওয়া হয়েছে—শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দেওয়া হলেও, তার সপক্ষে কোনো উপযুক্ত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ডের উল্লেখ নেই কেন? কোনো রকম ধোঁয়াশা না রেখে পুলিশ আজ, সোমবার সকাল ১১ টার মধ্যেই বিধাননগর থানায় অরূপ বিশ্বাসকে সশরীরে হাজির হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

এই মেসি-কাণ্ডের জল যে অনেক দূর গড়িয়েছে, তা রাজ্য রাজনীতিতে এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের লিখিত এফআইআর-এর পর থেকেই তদন্তের জাল দ্রুত গুটিয়ে আনছে পুলিশ। ফুটবল আবেগকে হাতিয়ার করে তোলাবাজি এবং জাল টিকিট বিক্রির যে সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ, তার মূল শিকড় খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় তোলাবাজি ও টিকিট কারচুপির অভিযোগে অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে গত ৪ জুন রাতেই নিউ আলিপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। আইনি ঢাল পেতে বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

আইনের চোখে যে সবাই সমান, তা আরও একবার প্রমাণ করতে মরিয়া প্রশাসন। ভাই স্বরূপ তো ইতিমধ্যেই লক-আপে, এবার কি তবে মেজদাদাকে জেরা করে এই কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারির আসল রহস্য উদঘাটন করবে পুলিশ? আজ সকাল ১১টায় বিধাননগর থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী হাজিরা দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করেন, নাকি আইনি লড়াইয়ের কোনো নতুন পথ খোঁজেন—সেদিকেই এখন নজর সবার।

Exit mobile version