প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা যাওয়ার পরেও কি তবে অহংকার কমেনি? পুলিশ ডাকবে আর ক্ষমতাচ্যুত দলের প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীরা বাড়িতে বসে এসির হাওয়া খাবেন? আইনকে পকেটে পুরে রাখার সেই পুরনো অভ্যাসের বেলুনটা অবশেষে আজ কলকাতা হাইকোর্টে ফুস হয়ে গেল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার টিকিট কেলেঙ্কারি মামলায় এবার আইনের চরম সাঁড়াশি চাপের মুখে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এতদিন ধরে ‘ডিহাইড্রেশন’ আর ‘রক্তে সুগার বৃদ্ধি’র মতো শারীরিক অজুহাত দেখিয়ে যিনি পুলিশি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর সমস্ত বাহানা খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। বিচারপতির সোজাসুজি, তীক্ষ্ণ ভাষায় প্রাক্তন মন্ত্রীকে বিঁধে প্রশ্ন করেন, “পুলিশ দেখা করতে বলছে, যাচ্ছেন না কেন? কবে যাবেন?” আদালতের এই কড়া প্রশ্নের মুখে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করে বলেন, “আপনি রক্ষাকবচ দিলে কালকেই যাব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই এক লাইনেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে গ্রেফতারির কতটা আশঙ্কা কাজ করছে এখন ক্ষমতা হারানো তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার মনে। আদালত আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর গ্রেফতারির ওপর সাময়িক অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও, তাঁকে কার্যত কড়া আইনি নজরদারির খাঁচায় বন্দি করেছে।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে তাঁর পাসপোর্ট ট্রায়াল কোর্টে জমা দিতে হবে, যাতে তিনি আইনের হাত থেকে বাঁচতে রাতারাতি দেশ ছেড়ে কোথাও পালাতে না পারেন। আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া তিনি কোনোভাবেই কলকাতা বা সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার বাইরে এক পা-ও নড়তে পারবেন না। নতুন সরকারের অধীনে থাকা বিধাননগর পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ পাঠাতে হবে এবং সেই নোটিশ পাওয়া মাত্রই নির্ধারিত দিনে অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরা দিতেই হবে। কোনো অজুহাত আর চলবে না। আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারকে এই গোটা কেলেঙ্কারির একটা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় চাবুকটি মেরেছেন স্বয়ং বিচারপতি। শুনানি চলাকালীন তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন, যুবভারতীর সেই চরম বিশৃঙ্খলা আর টিকিট কালোবাজারির কারণে স্বয়ং বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসি ক্ষোভে স্টেডিয়াম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। যা আন্তর্জাতিক স্তরে গোটা কলকাতার এবং ফুটবলপ্রেমী বাঙালির মাথা হেঁট করে দিয়েছিল।
রাজ্যের নতুন শাসক দল বিজেপির স্পষ্ট দাবি, যুবভারতীর কোটি কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারির আসল চাঁইদের আড়াল করতেই কি এতদিন এই হাজিরার লুকোচুরি চলছিল? ক্ষমতার দম্ভ চলে গেলেও দুর্নীতির তদন্ত থেকে যে পার পাওয়া যাবে না, তা আদালতের এই কড়া অবস্থান থেকেই স্পষ্ট। আইনের এই সাঁড়াশি চাপের মুখে পড়ে এবার কি মুখ খুলবেন অরূপ বিশ্বাস, নাকি অন্য কোনো প্রভাবশালীকে বাঁচাতে এই মরিয়া চেষ্টা? নজর থাকবে আমাদের।
