Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মেসির বিশ্বরেকর্ডের দিনেই ফের খোঁচা! ‘পাড়ার পল্টু’ কটাক্ষে অরূপকে তীব্র নিশানা শতদ্রুর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মাঠের ম্যাজিকে যখন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি, ঠিক তখনই কলকাতার রাজনীতিতে ফের একবার চর্চায় উঠে এল ক্ষমতাচ্যুত দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের এক কালো অধ্যায়। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে এলএম১০-এর ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের পরেই নাম না করে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সমাজমাধ্যমে তীব্র ভাষায় নিশানা করলেন ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। ফেসবুক পোস্টে শতদ্রুর সরাসরি তোপ— “আপনার পাড়ার পল্টু আজ হ্যাটট্রিক করেছে, এবার তো বেরিয়ে আসুন…”। বিশ্বকাপে ১৬ তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ছোঁয়া এবং ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জোড়া মাইলফলক ছুঁয়েছেন মেসি। আর বিশ্ব ফুটবলের এই মাহেন্দ্রক্ষণেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে বহুল চর্চিত ‘মেসি সফর বিতর্ক’ নিয়ে তীব্র তরজা।

বাংলার মানুষ গত বিধানসভা নির্বাচনেই তৃণমূলের ঔদ্ধত্য এবং দুর্নীতির যোগ্য জবাব দিয়ে তাদের ক্ষমতা থেকে ছুড়ে ফেলেছে। তবে ক্ষমতা হারালেও তাদের আমলের কুকীর্তির দাগ যে সহজে মুছবার নয়, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। গত বছর ডিসেম্বরে শতদ্রু দত্তর উদ্যোগে কলকাতায় মেসির ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ (GOAT India Tour)-কে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছিল। ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২২,০০০ কমপ্লিমেন্টারি টিকিট এবং ক্লোজ-প্রক্সিমিটি পাস জোর করে আদায় করেছিলেন, যা পরবর্তীতে কালোবাজারি করা হয়। শুধু তাই নয়, মাঠের নিরাপত্তা বুথ ভেঙে জোর করে মেসির কোমর জড়িয়ে ছবি তোলার যে ‘নাক-উঁচু’ সংস্কৃতি পরাজিত তৃণমূল নেতারা দেখিয়েছিলেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও জলঘোলা হয়েছিল। যদিও অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর অনুগামীরা এই সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন।

এই ঘটনায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচ দিলেও, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একটি পর্যবেক্ষণ রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। ভরা এজলাসে বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “মেসি কি অরূপ বিশ্বাসের বাল্যবন্ধু?” বিচারপতির এই কড়া মন্তব্যই প্রমাণ করে দিয়েছিল, তৃণমূল জমানায় ক্ষমতার দম্ভ কোন স্তরে পৌঁছেছিল।

জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আপাতত আইনি ঘেরাটোপ এবং জনসমক্ষ থেকে আড়ালে থাকা প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে লক্ষ্য করেই শতদ্রুর এই ‘পাড়ার পল্টু’ কটাক্ষ। শতদ্রু দত্ত ইতিমধ্যেই সিঙ্গল বেঞ্চের রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে মেসি যখন সবুজ মাঠে পায়ের জাদুতে বিশ্বজয় করছেন, তখন অন্যদিকে বাংলার এক প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীকে আদালতের চক্কর কাটতে হচ্ছে স্রেফ ‘তোলাবাজি’ এবং ‘সেলফি’ সংস্কৃতির মোহে পড়ে। মেসি গোল করে রেকর্ড ছুঁয়েছেন, আর শতদ্রুর এই একটা ঝাঁঝালো পোস্ট ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের দুর্নীতির পুরনো ক্ষতে নতুন করে নুনের ছিটে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version