Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মিশন ২০২৯! অ্যান্টিলিয়ার ড্রয়িংরুমে মোদী-শাহের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টে শুভেন্দু? আম্বানি-বৈঠকের নেপথ্যে দিল্লির মেগা প্ল্যান!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুম্বই সফর এবং মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-তে হওয়া হাইভোল্টেজ বৈঠকটি কেবল পশ্চিমবঙ্গের ৪ মাসের শাসনকালের সাফল্য উদযাপনের অঙ্গ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী দিল্লির রাজনৈতিক চাল। নবান্ন এবং দিল্লির অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাখির চোখ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। আর সেই মেগা সেমিফাইনালের আসর জমার আগেই বাংলাকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করার এক বিরাট ও গোপন ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে মুকেশ আম্বানির দুয়ারে পৌঁছেছেন শুভেন্দু অধিকারী।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে তৈরি হওয়া বিশেষ ‘বেঙ্গল মডেল’-এর প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল এই আম্বানি-সাক্ষাৎ। দিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—রাজনীতিতে ক্ষমতা দখল করা অর্ধেক লড়াই, কিন্তু বাকি অর্ধেক লড়াই হলো মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করা। আর সেই বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হলো শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে যে, বিগত জমানায় “উন্নয়ন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার”-এর সামাজিক সুরক্ষাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল যেভাবে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রেখেছিল, তাকে ভাঙতে গেলে তার চেয়েও বড় এবং বাস্তব “অর্থনৈতিক মুক্তির” স্বপ্ন দেখাতে হবে বাংলার মানুষকে। শুভেন্দু অধিকারী মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রিল্যায়েন্সের (Reliance) মেগা বিনিয়োগ নিশ্চিত করে প্রমাণ করতে চান যে, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি কেবল নির্বাচনী স্লোগান ছিল না, তা এক চরম বাস্তব। এই কর্পোরেট কূটনীতি সফল হলে দিল্লির দরবারে শুভেন্দুর রাজনৈতিক গ্রাফ যে এক ধাক্কায় অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল শিবির এতদিন বিজেপিকে ‘বাঙালি-বিরোধী’ বা ‘উন্নয়ন স্তব্ধ করার কারিগর’ বলে আক্রমণ শানাত। শুভেন্দু অধিকারী দেশের এক নম্বর ধনকুবেরকে বাংলার মাটিতে মেগা প্রজেক্টে রাজি করিয়ে সরাসরি সেই রাজনৈতিক আক্রমণের উৎসটাই বন্ধ করে দিতে চাইছেন। লোকসভা নির্বাচনের আগেই যদি রিল্যায়েন্সের হাত ধরে ডিজিটাল পরিকাঠামো, ৫জি সম্প্রসারণ বা গ্রিন এনার্জি ক্ষেত্রে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান শুরু হয়ে যায়, তবে ২০২৯-এর নির্বাচনে বিরোধীদের প্রচারের সব অস্ত্র ভোঁতা হয়ে যাবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় বারবার উঠে এসেছে যে বাংলার যুবসমাজ মূলত কর্মসংস্থানের অভাবেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়। শুভেন্দু সরকার যদি রিল্যায়েন্সের হাত ধরে আইটি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও রিটেল সেক্টরে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে গ্রাম ও শহরের সেই তরুণ ভোটব্যাঙ্ক স্থায়ীভাবে নতুন সরকারের পক্ষে চলে আসবে। অ্যান্টিলিয়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক তাই কেবল কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, এটি আসলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণের এক চূড়ান্ত কৌশলগত ব্লুপ্রিন্ট।

Exit mobile version