Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর ‘শাস্তি’! গরিব বিক্রেতাকে ওপার বাংলা থেকে ওড়ানোর হুমকি, তোলপাড় জঙ্গলমহল!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গরিবের প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা কি তবে অপরাধ? ভারতের ‘প্রধান সেবক’ নরেন্দ্র মোদীর হাতে পরম মমতায় ১০ টাকার ঝালমুড়ি তুলে দিয়ে রাতারাতি সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন ঝাড়গ্রামের সাধারণ বিক্রেতা বিক্রম সাউ। ভারতবাসীর কাছে সেই দৃশ্য অত্যন্ত আবেগের এবং গর্বের হলেও, তা যে সীমান্তের ওপারের কিছু দেশবিরোধী ও উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষের বুকে তীব্র জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল হাতেনাতে। প্রধানমন্ত্রীর সেই ‘ঝালমুড়ি-সঙ্গী’ এবং তাঁর পরিবারকে এবার সরাসরি টার্গেট করল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র। একের পর এক ভয়ঙ্কর আন্তর্জাতিক হুমকি ফোনে এখন রীতিমতো তোলপাড় গোটা জঙ্গলমহল!

ঝাড়গ্রামের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বহিরাগত কিছু অশুভ শক্তি। অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে বিক্রম বাবুর ফোনে প্লাস ৯২ (+৯২) অর্থাৎ পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড যুক্ত নম্বর এবং বাংলাদেশের একাধিক নম্বর থেকে অনবরত আসছে প্রাণনাশের হুমকি ও উসকানিমূলক ভিডিও কল। ফোনের ওপার থেকে অত্যন্ত কদর্য ভাষায় আক্রমণ করে হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে, “মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর অপরাধে তোর দোকান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে।” শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ থেকে ফোন করে উপহাসের সুরে জানতে চাওয়া হচ্ছে, “তুই এখনও বেঁচে আছিস?” একজন সৎ, পরিশ্রমী ভারতীয় বিক্রেতার ওপর এই কাপুরুষোচিত আক্রমণ মোদী-বিদ্বেষের কোন নগ্ন ও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামের মাটিতে তৈরি হয়েছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তার সমস্ত বেড়াজাল ভেঙে, কোনো রাজকীয় ঠাটবাট ছাড়াই রাস্তার ধারের এক সামান্য বিক্রেতার দোকানে কনভয় থামিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খেয়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি সত্যিই মাটির মানুষ। এই সরল দৃশ্যটি সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড় ওঠে। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা বোধহয় আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বদনাম করতে চাওয়া শক্তিগুলোর হজম হলো না। তাই একজন নিরীহ মানুষকে অস্ত্র বানিয়ে তারা এখন জঙ্গলমহলে আতঙ্ক ছড়ানোর সস্তা ও নোংরা রাজনীতিতে মেতেছে।

এই লাগাতার আন্তর্জাতিক হুমকির মুখে ভেঙে না পড়ে চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বিক্রম সাউ। তিনি সরাসরি ঝাড়গ্রাম থানায় গিয়ে পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ (General Diary) দায়ের করেছেন। ভারতের একজন সাধারণ নাগরিককে ভিনদেশি নম্বর থেকে হুমকি দেওয়ার এই ধৃষ্টতাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। জঙ্গলমহলের সুরক্ষায় পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে থাকা আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের জাল গুটিয়ে আনতে কোমর বেঁধে তদন্ত শুরু করেছে সাইবার সেল। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি, ভারতের বুকে দাঁড়িয়ে একজন ভারতীয়কে হুমকি দেওয়ার সাহস যারা দেখাচ্ছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক।

Exit mobile version