Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক! পেট্রল-ডিজেলে ১০ টাকা শুল্ক ছাড়, যুদ্ধের আবহে মধ্যবিত্তের বড় জয়!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টান—এই দ্বিমুখী সংকটের জেরে যখন বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, তখন ভারতীয় নাগরিকদের রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পেট্রল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তাকে এক কলমের খোঁচায় উড়িয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় পেট্রল ও ডিজেলের ওপর থেকে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (Additional Excise Duty) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিল মোদী সরকার।

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পেট্রল ও ডিজেল—উভয়ের ক্ষেত্রেই লিটার প্রতি ১০ টাকা করে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত পেট্রলের ওপর প্রতি লিটারে ১৩ টাকা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক দিতে হতো। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর সেই শুল্কের পরিমাণ কমে দাঁড়াল মাত্র ৩ টাকায়। অর্থাৎ, সরাসরি লিটার প্রতি ১০ টাকার সাশ্রয়। অন্যদিকে, ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্বস্তিদায়ক। এতদিন ডিজেলে লিটার প্রতি ১০ টাকা অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হতো, যা এখন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ফলে ডিজেলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক এখন ‘শূন্য’।

ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম হু হু করে বাড়ছিল। অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। ভারতেও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, পেট্রল-ডিজেলের দামও হয়তো হাতের বাইরে চলে যাবে। বিরোধীরা যখন এই ইস্যুকে পুঁজি করে সরকারের ওপর রাজনৈতিক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এই অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মোদী সরকার প্রমাণ করে দিল যে, দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থই তাদের কাছে সবার আগে।

ডিজেলের ওপর শুল্ক শূন্য করে দেওয়ায় পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। ট্রাক এবং লরির ভাড়া না বাড়লে বাজারদরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের (সবজি, ডাল, চাল) দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এটি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি রুখতে সাহায্য করবে। ১০ টাকা শুল্ক ছাড়ের সুবিধা যখন গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে বড় রকমের সঞ্চয় হবে। উৎসবের মরসুমে এই পদক্ষেপকে এক বড় উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ডিজেলের দাম কমলে কৃষি পাম্প এবং ছোট শিল্পগুলোতে উৎপাদন খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং এক দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপও বটে। যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা চলছে, তখন ভারতের মত বিশাল জনসংখ্যার দেশে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার সেই অসাধ্য সাধন করেছে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—”মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়”। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও মোদী সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান বিরোধীদের যাবতীয় নেতিবাচক প্রচারকে ধূলিসাৎ করে দিল।

পেট্রল-ডিজেলের এই বড় শুল্ক ছাড়ের ফলে ভারতের সাধারণ মানুষের মুখে যে হাসি ফুটল, তা অনস্বীকার্য। সরকারের এই সময়োচিত পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল যে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিকূলতা থাকলেও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের মানুষকে তার আঁচ থেকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এখন নজর থাকবে তেলের বিপণনকারী সংস্থাগুলোর দিকে, যারা খুব শীঘ্রই এই সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Exit mobile version