Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মোদীর মহাগর্জন: বাংলায় কি তবে হয়েই গেল? পূর্বস্থলীর জনজোয়ারে ‘বিস্ফোরক’ প্রধানমন্ত্রী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় কি তবে বইতে শুরু করেছে পরিবর্তনের সেই বহুল প্রতীক্ষিত ঝোড়ো হাওয়া? আজ পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠস্বর এবং জনসমুদ্রের উন্মাদনা অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সভার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর মেজাজ ছিল অত্যন্ত চাঙ্গা, আর তাঁর প্রতিটি বাক্য ছিল বিরোধীদের জন্য এক একটি রাজনৈতিক বাণ। সভা শেষে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— মোদী কি আজ বাংলায় জয়ের ‘সিলমোহর’ দিয়ে গেলেন?

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তিন রাজ্যের শান্তিপূর্ণ ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কুর্নিশ জানান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন। তিন রাজ্যে কোনো হিংসা ছাড়াই এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বুথে এসে ভোট দিয়েছেন। এটি গণতন্ত্রের জয়।” বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘হিংসামুক্ত’ ভোটের এই প্রশংসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফল হওয়া মানেই মানুষের মনে ভয়ডরহীনভাবে মতদানের ইচ্ছা জেগে ওঠা।

মোদীর তুরুপের তাস ছিল নারীশক্তি। তিনি বলেন, “কয়েক মাস আগে আমরা বিহার, মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানায় দেখেছি— যেখানেই ভোটের হার বেড়েছে এবং মায়েরা-বোনেরা দলে দলে বুথে এসেছেন, সেখানেই বিজেপি এবং এনডিএ অভাবনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই কথাটি বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গভীর। তিনি প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার মায়েরা-বোনেরা যদি বুথমুখী হন, তবে দিল্লির মত কলকাতাতেও পদ্ম শিবিরের জয় নিশ্চিত। বাংলায় মহিলা ভোটারদের যে বিশাল প্রভাব রয়েছে, তাকেই এবার জয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন মোদী।

পূর্বস্থলীর মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী অন্য রাজ্যগুলোর পরিস্থিতিও টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন, কেরলে এখন এমন পরিস্থিতি যে শাসকদল এলডিএফ বা বিরোধী ইউডিএফ— কোনো পক্ষই জোর গলায় নিজেদের জয়ের কথা বলতে পারছে না। অথচ বাংলার ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারেই উল্টো। প্রধানমন্ত্রীর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “বাংলাতেও বিজেপি জয়ের দিকেই এগোচ্ছে। কেরলের পরিস্থিতি যা-ই হোক, বাংলায় বিজেপির পাল্লা ভারী হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।”

বক্তব্যের শেষলগ্নে পৌঁছে যখন জনসভার ভিড় থেকে ‘মোদী মোদী’ স্লোগান আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করছে, তখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “আপনাদের এই জোশ, আপনাদের এই উদ্দীপনাই আমাদের জয় পাকা করে দিচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিছক জনসভা নয়, এই ভিড় আসলে ব্যালট বক্সের জনসমর্থন।

পূর্বস্থলীর এই সভার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আজ কেবল প্রচার করতে আসেননি, বরং তিনি জয়ের এক অলিখিত ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে গেলেন। মোদীর এই আত্মবিশ্বাস যদি বুথস্তরে কাজ করে, তবে বাংলার রাজনীতিতে এক বিশাল ওলটপালট হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পর এখন শাসক শিবিরের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

Exit mobile version