Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহাপাপের বিনাশ! রাজ্যে মোট ৭৬ লক্ষ ভুয়ো ভোটার সাফ করল কমিশন, শেষবেলায় আরও ১৩ লক্ষ নাম ‘আউট’!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় এক নজিরবিহীন ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে গত কয়েক বছরের নির্বাচনগুলোতে ‘ভোট-লুঠ’ এবং ‘ছাপ্পা ভোটের’ যে অভিযোগ বারবার উঠেছিল, তা নির্মূল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে কমিশন। বুধবার কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্যে পরিষ্কার, ভোটার তালিকায় যে বিশাল পরিমাণ ত্রুটিপূর্ণ নাম জমেছিল, তা পরিষ্কার করার কাজ প্রায় শেষের পথে। ‘স্পেশাল ইন্টার‍্যাক্টিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ দফায় আরও প্রায় ১৩ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকা থেকে পাকাপাকিভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বারবার অভিযোগ করে আসছিল যে, ভোটার তালিকায় মৃত (Dead), স্থানান্তরিত (Shifted) এবং দ্বৈত (Duplicate) ভোটারের সংখ্যা আকাশছোঁয়া। দাবি করা হয়েছিল, এই ভুয়ো ভোটারদের ব্যবহার করেই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই অভিযোগকেই কার্যত মান্যতা দিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা সংশোধনের সময় আগেই প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ সন্দেহভাজন নাম বাদ গিয়েছিল। এবার SIR প্রক্রিয়ায় আরও ১৩ লক্ষ নাম বাতিল হওয়ায় মোট সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ ৬৬ হাজারে। অর্থাৎ, প্রায় ৭৭ লক্ষ ‘ভুতুড়ে’ ভোটারকে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দিল নির্বাচন কমিশন।

কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। বুধবার পর্যন্ত এর মধ্যে ৩২ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে কমিশন। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ৩২ লক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ লক্ষের কোনো বৈধ নথিপত্র মেলেনি। ফলে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সেই নামগুলো বাতিল করা হয়েছে। বাকিদের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম গত সোমবার প্রকাশিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় স্থান পেয়েছে। আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ) দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, যেখানে বাকি থাকা আবেদনগুলোর চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ৭৬ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়া মানে রাজ্যে ‘ভোট ম্যানেজমেন্টের’ চিরাচরিত পদ্ধতিতে বড়সড় ধাক্কা। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ভুয়ো ভোটারদের একটা বড় অংশকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছাপ্পা ভোট দেওয়া হতো। এখন সেই ‘রিজার্ভ ফোর্স’ ভোটার তালিকা থেকে মুছে যাওয়ায় ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটা সময়ের অপেক্ষা। কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপে শাসক শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কমিশন এখন প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করছে। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বুথ স্তরের বিএলও (BLO)-দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অবস্থাতেই একটিও ভুয়ো নাম তালিকায় না থাকে। শুক্রবারের দ্বিতীয় তালিকায় আরও কয়েক লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় রাজনৈতিক মহলে এখন টানটান উত্তেজনা।

রাজ্যে ভোটার তালিকার এই বিশাল জঞ্জাল সাফ হওয়া বাংলার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী ঘটনা। ৭৬ লক্ষ ভুতুড়ে ভোটারের বিদায় ঘণ্টা বেজে যাওয়া মানেই হলো অনৈতিক উপায়ে ভোটদানের পথ রুদ্ধ হওয়া। এখন দেখার, শুক্রবারের চূড়ান্ত তালিকায় আর কত ‘জাল’ ভোটারের হদিস মেলে।

Exit mobile version