Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘মহাসংগ্রামের’ শেষ প্রস্তুতি! আজ রাত পেরোলেই ১৬ জেলায় তোলপাড়, কড়া অ্যাকশনে নির্বাচন কমিশন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের এক চরম মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত। ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণী লড়াইয়ের প্রথম ঘণ্টা বাজতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রাত পোহালেই প্রথম দফার মহারণ। রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২ টি বিধানসভা আসনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভোটগ্রহণ। আজ সকাল থেকেই প্রতিটি জেলার ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার কাম রিসিভিং সেন্টারগুলোতে (DCRC) তৈরি হয়েছে এক অভাবনীয় রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি। হাজার হাজার ভোটকর্মী ইভিএম (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) নিয়ে রণপ্রস্তুতি সেরে বুথের পথে রওনা দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনই রাজ্যের আগামীর ক্ষমতার অলিন্দে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর কিংবা বাঁকুড়া—ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে বৈচিত্র্যময় এই আসনগুলোতে এবারের লড়াই চতুর্মুখী। একদিকে শাসকদলের ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই—সব মিলিয়ে এই ১৫২টি কেন্দ্র এখন রাজনীতির ভরকেন্দ্র। ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষায়।

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দফার লড়াই ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম আয়োজন।
আসন সংখ্যা: ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটার সংখ্যা: প্রায় ৩.৬০ কোটিরও বেশি মানুষ আগামীকাল ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র: কয়েক হাজার বুথে চলবে ভোটগ্রহণ। মহিলা শক্তি: নারী ক্ষমতায়নের নজির গড়ে ৫,৪৪৪টি বুথ সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করবেন মহিলা ভোটকর্মীরা। বিশেষ ব্যবস্থা: বিশেষভাবে সক্ষম (PwD) ভোটকর্মীদের জন্য ২০৭টি বিশেষ বুথ এবং কয়েকশ মডেল বুথ তৈরি করা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। জেলাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথে থাকছে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের সুবিধা, যার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে দিল্লি ও কলকাতার কন্ট্রোল রুমে। অশান্তি রুখতে ফ্লাইং স্কোয়াড এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT) আজ রাত থেকেই এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বুথ দখল বা রিগিংয়ের কোনো অভিযোগ এলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার থেকে শুরু করে দুর্গাপুর বা বাঁকুড়া—রাজ্যের সর্বত্র ডিসিআরসি কেন্দ্রগুলোতে আজ তিল ধারণের জায়গা নেই। ইভিএম সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিশেষ কিট ব্যাগ বুঝে নিতে ব্যস্ত ভোটকর্মীরা। প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য জারি হয়েছে কড়া নির্দেশিকা; ইভিএম-এর নিরাপত্তা এবং ভোটারের গোপনীয়তা রক্ষায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

আগামীকাল সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে এই গণতান্ত্রিক মহাযজ্ঞ। এই ১৫২টি আসনের ফলাফলই ঠিক করে দেবে বাংলার আগামীর রাজনৈতিক গতিপথ। প্রথম দফার এই রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের টাটকা আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Exit mobile version