প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাদা-কালো আবেগকে চরম উদ্বেগের মধ্যে রেখে অবশেষে ময়দানের অলিন্দে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা! তীব্র আর্থিক অনটন আর চরম অব্যবস্থার জেরে ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে শুক্রবার ইস্তফা দিয়েছেন বিদায়ী সভাপতি আমিরুদ্দিন ববি। আর তাঁর পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাদা-কালো শিবিরের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আজ, শনিবার ক্লাব তাঁবুতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে সংবর্ধনাও জানানো হয়।শতবর্ষ প্রাচীন একটা ক্লাবের ঘাড়ে আজ প্রায় ১৩ কোটি টাকার বিপুল দেনার পাহাড়। সদ্য সমাপ্ত আইএসএল (ISL)-এ ক্লাবের পারফরম্যান্সও সমর্থকদের হতাশ করেছে। ক্রীড়ামহলের একাংশের মতে, এই সংকটকালে যখন ক্লাবের জন্য সম্পূর্ণ পেশাদার এবং কর্পোরেট পরিকাঠামোর প্রয়োজন ছিল, তখন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে ক্লাবের রাশ যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, মাঠের ফুটবলীয় উন্নয়নকে ছাপিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাব তাঁবুটি আবার কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের আখড়া হয়ে উঠবে না তো? তবে এই প্রশাসনিক বদলের পিছনে রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। নবান্নে একক রাজনৈতিক আধিপত্য কিছুটা আলগা হতেই ময়দানের ক্লাবগুলির ওপর থেকেও যে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে, আমিরুদ্দিন ববির বিদায় এবং এক আঞ্চলিক দলের বিধায়কের তড়িঘড়ি মসনদে বসা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ক্লাবের কোষাগার কার্যত শূন্য, দেনা প্রায় ১৩ কোটি টাকা। অথচ আজ নতুন সভাপতিকে বরণ করতে সংবর্ধনার আয়োজনে কোনো খামতি ছিল না। ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশ্ন, বিগত কয়েক বছরে পুঞ্জীভূত হওয়া এই কোটি কোটি টাকার দেনার দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে? চেয়ারে বসেই নতুন সভাপতি দাবি করেছেন, তিনি নাকি ক্লাবে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ঢুকতে দেবেন না। কিন্তু যিনি নিজে একজন সক্রিয় রাজনীতিক এবং যাঁর পরিচিতিই রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে, তাঁর এই ‘রাজনীতিমুক্ত’ ক্লাবের তত্ত্বকে স্রেফ চটকদার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখছেন সমালোচকরা। নতুন সভাপতি দাবি করেছেন, দ্রুত ইনভেস্টর এনে ক্লাবের ভাগ্যবদল করা হবে। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, ক্রীড়া পরিকাঠামোর আমূল সংস্কার না করে, কেবল রাজনৈতিক ছায়াকে ভরসা করে কোনো বড় কর্পোরেট সংস্থা আদেও এই ক্লাবে বড় অঙ্কের টাকা ঢালতে সাহস পাবে কি? ক্ষমতার এই হাতবদলে স্রেফ মুখের পরিবর্তন হলো, নাকি ভাগ্যের চাকাও ঘুরবে—তা নিয়ে খোদ মহামেডান সমর্থকদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
আইএসএল থেকে অবনমনের পর যখন খোলনলচে বদলে ফেলা উচিত ছিল, তখন ফুটবলকে পিছনের সারিতে ঠেলে প্রশাসনিক রদবদল কতটা ফলপ্রসূ হয়, তার উত্তর দেবে সময়। তবে ঐতিহ্যবাহী মহামেডানের এই নতুন অধ্যায় শেষ পর্যন্ত সাদা-কালো শিবিরে পেশাদারিত্ব ফেরাবে নাকি রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির শিকার হবে, তার উত্তর পেতে ময়দানকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
