Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিহারে ‘কিশোর’-ধাক্কা, মুম্বইয়ে ‘জেন-জি’ চাণক্য! মোহন ভাগবতের মেগা রিলিজের নেপথ্যে কী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে টাইমিং বা সময়ের চেয়ে বড় সত্য বোধহয় আর কিছুই হয় না। আর সেই টাইমিং যখন মিলে যায় দুইয়ে দুইয়ে চারে—তখনই জন্ম নেয় হাজারো প্রশ্ন, হাজারো রাজনৈতিক সমীকরণ। সোমবারই বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন ইতিহাস। বিজেপির খাসতালুক, স্বয়ং বিজেপির জাতীয় সভাপতির ছেড়ে যাওয়া আসনে পদ্ম শিবিরকে ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে মাটি ধরিয়েছেন ভোটকুশলী থেকে সদ্য নেতা হওয়া প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর দল জন সুরজ। আর এই ‘কিশোর’-ধাক্কার রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক তিন দিনের মাথায়, আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মুম্বইয়ের বুকে এক অভূতপূর্ব কর্মসূচিতে নামছেন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। দেশের ১০০টি শহরের ২ হাজারেরও বেশি ‘জেন জি’ (Gen Z) এবং ‘জেন আলফা’ (Gen Alpha) প্রজন্মের পড়ুয়াদের মুখোমুখি হতে চলেছেন সংঘপ্রধান। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র প্রশ্ন—বাঁকিপুরে যুবদের যে নিঃশব্দ আন্দোলন ব্যালট বক্সে ঝড় তুলল, এই ‘জেন জি’ জনসংযোগ কি তারই ড্যামেজ কন্ট্রোল? নাকি ভোটের ফলাফল দেখেই কিশোর-তরুণদের মন জয়ের মরিয়া চেষ্টা?

ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপটটা কিন্তু বেশ গভীর। গত কয়েক মাস ধরেই দেশে একের পর এক পরীক্ষা কেলেঙ্কারি, পেপার লিক বিতর্ক এবং তাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের তীব্র আন্দোলনের জেরে খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। আর সেই ক্ষোভের আঁচ যে কতটা মারাত্মক, তা প্রমাণ করে দিল বিহারের বাঁকিপুর। ১৯৯৫ সাল থেকে যে আসন ছিল বিজেপির একচ্ছত্র দুর্গ, যেখানে কখনও হারেনি গেরুয়া শিবির, সেখানে তরুণ প্রজন্মের সমর্থনকে হাতিয়ার করে এক ঝটকায় জয় ছিনিয়ে নিলেন প্রশান্ত কিশোর।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন প্রজন্মের এই ক্ষোভ এবং সনাতন ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার বিষয়টি বুঝতে পেরেই এবার সরাসরি ময়দানে নামতে হচ্ছে খোদ সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বকে। যদিও আরএসএস এবং অনুষ্ঠানের আয়োজক আইআইএমইউএন (IIMUN)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের ১৫তম বর্ষপূর্তি উৎসব এবং বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাত্র। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে (NMACC) আয়োজিত এই সংলাপে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন মোহন ভাগবত। তবে সংঘের অন্দরমহল সূত্রেও এটা ঢাকা দেওয়া যাচ্ছে না যে, ২০২১ সালের পর এত বড় স্তরে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হননি ভাগবত। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের পর সংঘের রণকৌশলীরাও ঘরোয়া আলোচনায় মেনে নিয়েছেন, দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী শিবিরের একটি স্পষ্ট দূরত্ব বা ‘ডিসকানেক্ট’ তৈরি হয়েছে।

আজকের তরুণ প্রজন্ম অন্ধ বিশ্বাসে নয়, যুক্তি আর লজিকে বিশ্বাস করে। খোদ মোহন ভাগবতও এর আগে বলেছেন যে, আজকের যুব সমাজকে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যৌক্তিকভাবে। কিন্তু সমালোচকরা খোঁচা দিয়ে বলছেন, ঝুলি যখন শূন্য হতে শুরু করেছে, যখন খাসতালুক হাতছাড়া হতে শুরু করেছে, তখনই কেন মনে পড়ল এই জেন-জি আর জেন-আলফাদের কথা? যে যুব সমাজ চাকরি আর স্বচ্ছ পরীক্ষার দাবিতে রাস্তায় নামলে এতকাল কোনো কোনো মহল থেকে কটাক্ষ উড়ে আসত, আজ তাদের মন পেতেই কি নমনীয় হওয়ার এই নতুন কৌশল?দিল্লির মসনদ ধরে রাখতে আর ২০২৬-এর পরবর্তী রাজনৈতিক বৈতরণী পার করতে আরএসএস-এর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা কাজ দেয়, নাকি প্রশান্ত কিশোরের মতো ‘নতুন চাণক্যদের’ ঢেউয়ে তা খড়কুটোর মতো ভেসে যায়—তার উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ। তবে বৃহস্পতিবারের এই মেগা সংলাপের দিকে যে গোটা দেশের নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version