Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘মোল্লা’র ডেরায় আগুন! ক্যানিংয়ে কোন্দল চরমে, শওকতকে ঘিরে তৃণমূলের তাসের ঘর কি এবার ভাঙছে?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গতকাল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই পরিষ্কার হয়ে গেল—তৃণমূলের অন্দরে চোরা স্রোত নয়, এখন আস্ত একটা আগ্নেয়গিরি ফুটছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডাকসাইটে নেতা শওকত মোল্লাকে নিজের গড় ‘ক্যানিং পূর্ব’ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভাঙড়ে। আর এই খবর চাউর হতেই ক্যানিংয়ে আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়েছে জনরোষ। গতকাল রাত থেকেই ক্যানিং পূর্বের রাজপথ অবরুদ্ধ। শওকত মোল্লার অনুগামীরা টায়ার জ্বালিয়ে, স্লোগান দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা বাহারুল ইসলামকে মানবেন না। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, “শওকত মোল্লা ছাড়া ক্যানিং পূর্ব অচল। বাহারুলকে দিয়ে দল এখানে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বিক্ষোভের তীব্রতা দেখে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কি তবে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারল?‌ রাজনৈতিক মহলের মতে, শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ে পাঠানো আসলে তৃণমূলের এক বড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে গিয়ে ‘ব্যাকফায়ার’ করলো। কিন্তু কেন এই ক্ষোভ? অনেকে বলছেন, ক্যানিং পূর্বে বাহারুল ইসলামের মত নেতাকে একাংশ মেনে নিতে পারছেন না। এর ফলে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক আরও সংহত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আবার একাংশের মতে, শওকত অনুগামীদের আশঙ্কা, নেতা এলাকা ছাড়লে তাঁদের ‘দাপট’ কমবে। এই ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতই এখন তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ।

অন্যদিকে ভাঙড়ে আইএসএফ ও নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে শওকতকে লড়তে পাঠিয়ে দিদি আসলে ক্যানিংয়ের ‘সেফ সিট’ বিপদে ফেলে দিলেন কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হচ্ছে, “তৃণমূল দলটা এখন তাসের ঘর। কে কোথায় প্রার্থী হবে সেটা পিসি-ভাইপো ঠিক করছেন, কিন্তু মানুষ কাকে চায় তা তাঁরা জানেন না। ক্যানিংয়ের মানুষ এবার যোগ্য জবাব দেবেন। উন্নয়নের বদলে যেখানে ডান্ডা মারার রাজনীতি চলে, সেখানে এই কোন্দলই পতন ডেকে আনবে।” এখন দেখার, ক্যানিংয়ের এই বিক্ষোভ কি শুধুই সাময়িক নাকি বাহারুলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবি মানতে বাধ্য হবে কালীঘাট? যদি শওকতকে ফেরানো না হয়, তবে ক্যানিং পূর্বে পদ্ম ফোটার রাস্তা কি আরও প্রশস্ত হয়ে গেল? উত্তর দেবে সময়।

Exit mobile version